কচুয়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণকারী শাকিব আজও গ্রেফতার হয়নি

কচুয়া উপজেলার বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রীকে অপহরণকারী শাকিব (১৯) আজও গ্রেফতার হয়নি। মেয়েটি কচুয়া উপজেলার মালচোঁয়া গ্রামের। সে স্থানীয় প্রসন্নকাপ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

তার মা আছমা আক্তার জানান, গত ১ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বসতঘর হতে বের হয়ে টয়লেটে যায়। এরপর আর মেয়েটি ঘরে ফিরে আসেনি। তাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পাওয়া না যাওয়ায় কচুয়া থানায় গত ২ জুন একটি নিখোঁজ ডায়ারি করা হয়।

আছমা বেগম আরো জানান, শাকিব তার ‘জা’ রোকসানা আক্তারের ভাই। অর্থাত্ দেবর জাহাঙ্গীর আলমের শ্যালক। শাকিব একই উপজেলার দোঘর গ্রামের বাসিন্দা। শাকিব আত্মীয় বিধায় মাঝে মধ্যে আমাদের বাড়ি বেড়াতে আসত। সে প্রায়ই আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত ও কুপ্রস্তাব দিত। কিন্তু আমার মেয়ে তার প্রস্তাবে সাড়া দিত না। শাকিব তার বোন রোকসানা ও ভগ্নীপতি জাহাঙ্গীর আলমের সহায়তায় তাকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে পারে—এমন সন্দেহের কথা কচুয়া থানার পুলিশকে জানালে পুলিশ রোকসানা ও জাহাঙ্গীর আলমকে থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও মেয়েটিকে বের করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে রোকসানা ও জাহাঙ্গীর আলম তাকে বের করে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে বের করে দেই-দিচ্ছি করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ৫ জুন থানার পুলিশ ও আমরা জানতে পারি যে, মেয়েটি ও শাকিব কসবা উপজেলার সদরের একটি কলেজের শিক্ষক শাকিবের মামা সেলিমের বাসায় আছে। ঐ দিনই কচুয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় সেলিমের বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শাকিব পালিয়ে যায়।

 মেয়েকে উদ্ধারের দিনই তার মা বাদী হয়ে কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা করেন। শাকিব, তার বোন রুনা আক্তারসহ (রোকসানার ছোট বোন) অপহরণ কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগে সাত জনকে আসামি করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময় শাকিব মেয়েটিকে তার অজ্ঞাতনামা বন্ধুদের বাসায় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কচুয়া থানার এসআই জাহাঙ্গীর জানান, চাঁদপুরের আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। জবানবন্দিতে ভিকটিম জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে। তার মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানো হয়েছে। মামলার সাত নম্বর আসামি শাকিবের নিকট আত্মীয় দেলোয়ার হোসেনকে ৮ জুন গ্রেফতার করা হয়েছে। শাকিবসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।