মুকুল রায় দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। দলের ৭৪ এমএলএর মধ্যে বেশ কয়েক জন দল ছাড়তে আগ্রহ প্রকাশ করছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এই সংখ্যাটা ২৫ থেকে ৩০ জন হতে পারে। অন্যদিকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির বিপ্লব দেবের বিরোধী হিসেবে পরিচিত এবং মুকুল রায়ের অনুগামী সুদীপ রায়বর্মণের শিবিরের তৃণমূলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় ত্রিপুরার রাজনীতিতে নতুন মোড় আসার ইঙ্গিত মিলছে। গুঞ্জন রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একটু উত্সাহ দেখালেই বদলে যেতে পারে ত্রিপুরার রাজনীতিও।
ত্রিপুরায় সুদীপ রায়বর্মণ জাতীয় কংগ্রেস ছেড়ে মুকুল রায়ের হাত ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। সঙ্গে কয়েক জন এমএলএ। ২০১৭ সালে মুকুল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সুদীপও বিজেপিতে যোগ দেন। ত্রিপুরার অনেকেই বিশ্বাস করেছেন ২০১৮ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে সুদীপের হাত ধরেই জাতীয় কংগ্রেসের ভোট বিজেপিতে আসে। ফলে এবার মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় সুদীপেরও তৃণমূলে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন চলছে। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে সুদীপসহ ১১ এমএলএকে বিজেপির টিকিট না-ও দেওয়া হতে পারে। ফলে তারা বিকল্প খুঁজছেন। কোন পরিস্থিতিতে সুদীপসহ ১১ এমএলএ বিজেপি ছাড়লে ত্রিপুরাতে কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিজেপি। ত্রিপুরা বিধানসভার ৬০ আসনের মধ্যে বিজেপির ৩৬ আসন, জোটে থাকা আইপিএফটির ৮ আসন। বিভিন্ন ইস্যুতে ত্রিপুরার পরিবর্তনপন্থি বিধায়করা বিপ্লব দেবকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে চান। এরা সুদীপের অনুগামী। বিজেপির শরিক দল আইপিএফটিও ক্ষুব্ধ।
এদিকে মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর একের পর এক বিজেপি নেতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি এমন যে বিজেপি নেতৃত্ব তাদের ৭৪ এমএলএর ওপর কড়া নজরদারি করছেন। নির্বাচনের পর এদের কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই সেই নিরাপত্তা ছেড়ে দিয়েছেন। বেশ কয়েক জন এমএলএ তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন। মুকুল রায়ের ছেলে এবং সাবেক এমএলএ শুভ্রাংশ রায় সোমবার বলেছেন, অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন বিজেপির এমএলএ দল ছাড়ার বিষয়ে আগ্রহী।