মাগুরার মহম্মদপুরের কালুকান্দি গ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আজিজুর রহমানের বিছিন্ন একটি পা ও মাথা গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মাগুরা সদর উপজেলার জগদল এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে। র্যাব খুলনার বিভাগীয় অধিনায়ক লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজের নেতৃত্বে র্যাব-৬-এর একটি দল গতকাল বিকালে এলাকার একটি কালভার্টের ভেতর থেকে নিহতের পা ও মাথা উদ্ধার করে।
র্যাব কর্মকর্তা রওশনুল ফিরোজ জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আশরাফ আলীকে গতকাল যশোরের শার্শা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক জগদল এলাকা থেকে নিহত আজিজুরের পা ও মাথা উদ্ধার হয়।
রওশনুল ফিরোজ আরো জানান, অভিযুক্ত আশরাফ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তিনি মাগুরা সদরের মালিক গ্রামের আহম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। পেশায় হোমিওপ্যাথি চিকিত্সক। মাগুরা শহরের বেলতলায় তার দোকান আছে। সেখানে হোমিও চিকিত্সার পাশাপাশি আশরাফ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং নেটওয়ার্ক ব্যবসা করেন। নিহত আজিজুর তার এই নেটওয়ার্কের সদস্য। এই ব্যবসা সূত্রে আজিজুরের কাছে আশরাফ ৩ হাজার টাকা পেত। আশরাফ তা অস্বীকার করে মাত্র ৫০০ টাকা পাওনার কথা বলে আসছিল। যে কারণে আশরাফ ৫ জুন আজিজুরকে তার হোমিও চেম্বারে ডেকে আনেন। একপর্যায়ে সে তাকে প্রথমে আঘাত করে সংজ্ঞাহীন ও পরে হত্যা করে। পরে পা ও মাথা বিচ্ছিন করে। পরে একটি পা ও মাথা কালভার্টে এবং বাকি অংশ বস্তাবন্দি অবস্থায় নিহত আজিজুরের নানাবাড়ি মহম্মদপুরের কালুকান্দি গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। কাজটি আশরাফ একাই করেছে বলে র্যাবের কাছে দাবি করেছে।
প্রসঙ্গত, নিহত আজিজুর রহমান মাগুরা সদর উপজেলার সংকোচখালী গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।