>> জাহিদ হাসান
ছোটবেলা থেকেই সবার কিছু না কিছু হয়ে ওঠার স্বপ্ন থাকে। তাই বলে অন্য কোনো পেশায় সফল মানুষের সংখ্যাও যে কম নয়। তেমনি আইন পেশায় সফল মানুষদের কাতারে নিয়ে যাওয়া একজন এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া।
বাবা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক। ছোটবেলা থেকে সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও সাংবাদিকতা অনুষদ না থাকায় এবং বাবার ছাত্র ল ডিপার্টমেন্টের ডিন ড. শাহ আলম স্যারের পরামর্শে ভর্তি হন আইন অনুষদে। সেখান থেকে অনার্স সম্পন্ন করে বার কাউন্সিলের পরীক্ষা ও ভর্তি শেষে ২০০১ সালে আইনজীবী শফিক আহমেদের চেম্বারে কর্মজীবনের শুরু করেন এমরান। ২০০২ সালে মাত্র সাড়ে সাত হাজার টাকায় যোগ দেন ‘মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’য় লিয়াজো অফিসার পদে। একই বছর যোগ দেন লি খান অ্যান্ড পার্টনার্সে। তারপর সেখান থেকে চলে যান আইনজীবী মনিরুজ্জামান খানের কাছে। ২০০৬ সালে এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া প্রতিষ্ঠা করেন নিজের ল ফার্ম 12BC Law Chambers।
তিনি জানান, আম্মা আমাকে গাউন কিনে দিয়েছিলেন। সেই গাউন পরেই আমার ওকালতির পথচলা। ধীরে ধীরে ক্লায়েন্ট পেতে থাকলাম; প্রায় সবই ব্যাংক, কোম্পানি। আইন পেশা চ্যালেঞ্জিং, তবে তা নির্ভর করে সিনিয়র কাকে পাচ্ছেন তার ওপর। আবার মামলা পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ অনেক কমে যায় মামলা ঠিকঠাক বুঝলে। না বুঝে মামলা লিখলে আর হিয়ারিং করলে সারাজীবন চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবেই এই পেশা।
এমরান জানান, কেবলই টাকা কামানোর চিন্তা থাকলে এই পেশায় আসার কোনো দরকার নাই। এই পেশায় কষ্ট করলেই কেষ্ট মিলে। সেইসঙ্গে প্রয়োজন সাহস। আইন আর সংশ্লিষ্ট মামলা সম্পর্কে জানা থাকলে বিচারকদের সামনে সাহসও থাকে। অতএব, চ্যালেঞ্জে আপনি জিতবেন না হারবেন তা আপনার ওপরই নির্ভর করে।
ভূমি সংক্রান্ত আইন আর মামলার দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত মামলা আমরা উকিল আর জজ সাহেবরা দীর্ঘায়িত করি। চটজলদি কিছু করার সুযোগ নেই জটিল ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি আইনে। এ আইন অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। এসব মামলা দ্রুত শেষ হলে ক্রিমিনাল কেসও অনেক কমে যাবে নিঃসন্দেহে। আমাদের বর্তমানে যে জনবল আছে তা দিয়ে অনেকটাই সম্ভব যদি আইনটিকে যুগোপযোগী করা যায়।