ইউপিডিএফের জেলা সভাপতি কুনেন্টু চাকমা বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ৪ লাখ টাকাসহ আটক

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি কুনেন্টু চাকমাকে একটি বিদেশি পিস্তল ও নগদ ৪ লাখ টাকাসহ আটক করেছে যৌথ বাহিনী। শনিবার দুপুরে রাঙ্গামাটির কুতুকছড়ির উত্তর পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুনেন্টু চাকমাকে আটক করা হয়।

রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শন মোঃ আনোয়ার জানান, ‘গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুতুকছড়ির উপর পাড়া এলাকায় যৌথ বাহিনী এ অভিযান চালায়। এ সময় ইউপিডিএফের বেশ কয়জন একত্রিত হয়ে চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক করছিল। অভিযানের সময় কুনেন্টু চাকমাকে গ্রেফতার করা গেলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। অভিযানে ৪ টি মোবাইল ও ইউপিডিএফের চাঁদা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করা হয়। রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানায় আটককৃতের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

পুলিশ সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটির কুতুকছড়ি এলাকায় ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের চিফ কালেক্টর রবি চন্দ্র চাকমা ওরফে অর্কিড চাকমা ওরফে অর্ণব বাবু, গণতান্ত্রিক যুব ফোরারেম আহবায়ক ধর্মসিংহ চাকমা, ইউপডিএফ কাউখালী উপজেলার সংগঠক সম্রাট চাকমা, সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য রনজিত চাকমাসহ আরো কয়েকজন একত্রিত হয়ে উত্তেলিত চাঁদা বন্টন সংক্রান্ত বৈঠক করছে। এ সময় যৌথ বাহনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যান্য সক্রিয় সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও কুনেন্টু চাকমাকে আটক করা হয়। কুনেন্টু চাকমা নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শাক্তিমান চাকমা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সংগঠন নামে পার্বত্য অঞ্চলে খুন, গুম, হত্যা, চাঁদাবাজীর মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে।

আরও পড়ুনঃ সাজেকে পর্যটকবাহী পিকআপ উল্টে আহত ৬

পুলিশ আরো জানায়, কুনেন্টু চাকমা রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের হুমকী প্রদান করে। এছাড়া পার্বত্য এলাকার বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর সংবাদ ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের পক্ষে প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করে।

ইত্তেফাক/নূহু