বোরো মৌসুম
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হলেও ধান-চাল সংগ্রহে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ হয়নি। এদিকে সরকারি দাম নিয়ে মাঠ পর্যায়ে মিল মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং সরাসরি খাদ্যগুদামে কৃষকদের ধান বিক্রিতে নানা সমস্যার কারণে সংগ্রহে কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না। একই কারণে গত বোরো ও আমন মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। জেলা খাদ্য বিভাগ এবং একাধিক মিল মালিকের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে গত ২৮ এপ্রিল ধান এবং ৭ মে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এ মৌসুমে জেলায় ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ১৫১ মেট্রিক টন এবং সিদ্ধ চাল ২২ হাজার ৬৮৫ টন ও আতপ চাল ৬ হাজার ৪৭৮ টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। খাদ্যগুদামে সরবরাহের জন্য মিল মালিকদের প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল ৪০ টাকা, আতপ চাল ৩৯ টাকা এবং খাদ্যগুদামে তালিকাভুক্ত কৃষকদের জন্য প্রতি কেজি ধানের মূল্য ২৭ টাকা ধরা হয়েছে। সিদ্ধ চাল সরবরাহে ৬৭টি ও আতপ চাল সরবরাহে ১৪টি মিল মালিকের সঙ্গে চুক্তি করেছে জেলা খাদ্য বিভাগ। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ হয়নি। ছয় জন মিল মালিক জানান, লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে লোকসান জেনেও তারা চুক্তি করেছেন। সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে খোলা বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় চুক্তি অনুযায়ী তারা চাল দিতে পারছেন না।
কুমিল্লা জেলা রাইস মিল মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রব জানান, এমনিতেই করোনার কারণে ব্যবসা মন্দা। লোকসান দিতে দিতে পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। সরকার দেশের বাইরে থেকে বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে চাল আমদানির কথা বললেও দেশে আনার পর খোলা বাজারে ঐ কম দামের চাল আরো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কুমিল্লা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়সার আলী বলেন, গত বোরো ও আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে এবার খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির জন্য কৃষকদের উত্সাহিত করতে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার টন ধান, ১০ হাজার টন সিদ্ধ চাল ও ২ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে। এ হিসাবে এবার লক্ষ্যমাত্রার ২০ থেকে ৩০ ভাগ অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।