কংসের ভাঙনে হুমকিতে ঠাকুরাকোনা ফকিরের বাজার সড়ক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় কংস নদের ভাঙন হুমকিতে রয়েছে বারহাট্টা উপজেলার ফসলি জমি, কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়িসহ জেলার ঠাকুরাকোনা-ফকিরেরবাজার সড়ক। গত বছর এ নদের ভাঙনে বারহাট্টা উপজেলার শতাধিক ঘরবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটির বস্তা ফেলে সড়ক রক্ষার চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ফকিরের বাজার এলাকার কর্ণপুর, চরপাড়া, পাঁচপাই ও বাঘরুয়াসহ কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর কংস নদের ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন নদপাড়ের বাসিন্দারা। ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বাঘরুয়া গ্রামের ইমরান শাহ্ ফকির বলেন, কংস নদের ভাঙনে আমাদের গ্রামের অনেক বাড়িঘর, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফসল রক্ষাবাঁধ ও গ্রামের কবরস্থান এবং মসজিদ হুমকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে আবাদি জমি, জঙ্গল ও অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে নদগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গত বছর সড়ক ও বাঁধ রক্ষায় কিছু বস্তা ফেলা হয়েছিল। তাতে লাভ হয়নি। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। চরপাড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক তালুকদার জানান, গত কয়েক বছর ধরে কংস নদের ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চরপাড়া-কর্ণপুর দুই গ্রাম মিলে কয়েক বছরে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি নদের ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। মানুষজন বসতভিটা হারিয়ে এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। হুমকিতে রয়েছে ঠাকুরাকোনা-ফকিরেরবাজার সড়কটিও। সড়কটিসহ ঐ দুই গ্রামে নদের তীরে স্থায়ী বাঁধ না দিলে আরো কয়েক হাজার ঘর বিলীন হয়ে যাবে। কর্ণপুর গ্রামের পংকজ মজুমদার জানান, আমরা কয়েক বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমাদের বাড়ি, জমিসহ সবকিছু নদের গর্ভে চলে যাচ্ছে। গত বছর সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি সরেজমিনে এসে এলাকা ঘুরে দেখে গেছেন। ভাঙনের ভয়াবহতা দেখে দ্রুত স্থায়ী বাঁধের আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি।

বারহাট্টার রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রাজু জানান, কর্ণপুর চরপাড়া, ফকিরের বাজারসহ অন্তত চারটি গ্রামের অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। শত শত একর ফসলি জমি চলে গেছে নদের গর্ভে। গ্রাম রক্ষাবাঁধসহ সড়কটি রক্ষায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং ঐ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, নদের ভাঙন ঠেকানো এবং সড়কটি রক্ষার জন্য গত বছর কিছু কাজ করা হয়েছিল। এবারও রোধ ও সড়ক রক্ষায় কাজ করা হবে।