২০০০ সালের প্রথম দিকে খিরু নদী, যা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার প্রাণ বলে পরিচিত, নদীর যে স্রোত ছিল, ২০২০ সালে দেখে মনে হলো অচেনা কোনো নদীর পাড়ে এসে দাঁড়িয়েছি। এই ২০ বছরে ভালুকা উপজেলাজুড়ে একাধিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে, কিন্তু প্রাণের খিরু নদী ততদিনে একটি বিষাক্ত নদীতে পরিণত হয়েছে। খিরু নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জেলে, কৃষক ও সাধারণ মানুষ বিষাক্ত খিরু নদীর পানি আর কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না। শিল্প কারখানার বিষাক্ত পানি ও শিল্প বর্জ্য প্রতিদিন খিরু নদীতে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো ফলাফল আসেনি। শিল্প কারখানার মালিকরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় কারোর প্রতিবাদই গুরুত্ব পায়নি। যে খিরু নদীর মাছের সুনাম ছিল সারা ময়মনসিংহে, আজ সেই খিরু নদী মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। নদীর সামনে আর যাওয়া যায় না, বিষাক্ত দুর্গন্ধ সবাইকে অসুস্থ করে তোলে, আশেপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দারাও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যাঁরাই খিরু নদীর পানি ব্যবহার করছেন তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যে কারণে যাঁরা এতদিন খিরু নদীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তাঁরা বাধ্য হয়েছেন তাঁদের পেশা বদল করতে।
বাঁচাতে হবে খিরু নদীকে। ভালুকাবাসী আশা করেন খুব শীঘ্রই খিরু নদীকে বিষমুক্ত করতে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। যেভাবে হোক শিল্প কারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি খিরু নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে, নদী খনন করতে হবে, নদীর চারপাশে এমনভাবে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করতে হবে কেউ যেন খিরু নদীকে আর দূষিত না করতে পারে। খিরু নদী ফিরে পাক তার আগের রূপযৌবন।
সৈয়দ রশিদ আলম
ভালুকা, ময়মনসিংহ