আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকাশ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। সব ধরনের অর্থনৈতিক আদানপ্রদান, বিল পরিশোধসহ যাবতীয় সুবিধা গ্রহণের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম এটি। এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাওয়ায় প্রায় সব গ্রাহকই বড় অঙ্কের একটি অ্যামাউন্ট বিকাশ অ্যাকাউন্টে জমা করে রাখেন। ক্যাশ আউট সিস্টেম হাতের নাগালে থাকায় যখন যেমন বিকাশ থেকে টাকা তোলা যায়। এতোসব সুবিধা থাকার পরেও প্রতিনিয়ত ঘটছে বিকাশকেন্দ্রিক প্রতারণা। কিছু অসাধু লোক গ্রাহকদের বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নাম্বার কৌশলে জেনে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ। প্রতারণার পদ্ধতিও অভিনব। প্রতারকরা এজেন্ট অফিস থেকেই গ্রাহকদের লক্ষ রাখে। কার অ্যাকাউন্টে কত টাকা পাঠানো হয়েছে অতি কৌশলে তা করায়ত্ত করে। তারপর শুরু হয় তাদের গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট নাম্বার সংগ্রহ করার মিশন। বিকাশ অফিস থেকে অমুক বলছি বলে ফোন কল শুরু করা এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গ্রাহকভেদে এরা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে। নারী গ্রাহকদের সহজেই প্রভাবিত করা যায় বলে এরা সাধারণ অ্যাকাউন্ট ডিজেবল হওয়া কিংবা হ্যাক হওয়ার নাটক করে পিন নাম্বার জেনে নেয়। পুরুষ গ্রাহকদের আয়ত্তে আনা হয় বিভিন্ন লটারি ও পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে। অ্যাকাউন্টের পিন নাম্বার হচ্ছে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়টি না বুঝে সরলমনা জনসাধারণ অতি সহজেই প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের সর্বস্ব হারান। অফিস থেকে কখনো পিন নাম্বার চাওয়া হবে না। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত পিন নাম্বার চেঞ্জ করার মানসিকতা রাখতে হবে। অনেকে এজেন্টের কাছ থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার পর পিন চেঞ্জ করেন না। বিকাশকে উপলক্ষ্য করে কেউ প্রতারণা করতে চাইলে তার ফোন নাম্বারসহ বিস্তারিত তথ্য থানায় জমা দিতে হবে। পিন এবং কোড যেখানে সেখানে উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। প্রলোভন থেকে দূরে থাকার মানসিকতা গড়া একান্ত প্রয়োজন। সর্বাপেক্ষা যা বেশি প্রয়োজন তা হচ্ছে ভেবে কাজ করা।
আ. রহমান দেওয়ান, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর