রাজধানীর গুলশানে একটি বহুতল ভবনের নিচ থেকে আরপি গ্রুপের পরিচালক ইসরাত জেবিন মিতুর (২৮) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর শরীয়তপুরে লাশ দাফন করা হয়েছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
মিতুর বাবা আব্দুল মুকিত দেওয়ান ইত্তেফাককে বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরে লাশ দাফন করা হয়েছে। মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। তবে আমি পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে চাই। পুলিশ যেন সঠিকভাবে তদন্ত করে এই মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করে।
গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, এরই মধ্যে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ঐ বাড়ির সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পারিবারিক কলহ ছিল কি না সে ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মুকিত দেওয়ান যে মামলাটি করেছেন, সেটি ধরেই তদন্ত কাজ এগিয়ে চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে কিছুটা পরিষ্কার হওয়া যাবে।
সোমবার দুপুরে গুলশান-২-এর ৬৯ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ির সুইমিংপুলের পাশে মিতুর লাশ পড়ে ছিল। মিতুর শ্বশুরপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, মিতু ৯ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে পরিবারের দাবি, আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ থাকতে পারে না। মিতুকে হত্যার পর ভবন থেকে ফেলে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
মিতুর স্বামী নাঈম আহম্মেদ আরপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মিতুও এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ছিলেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মিতুর মামা মো. মাসুদ বলেন, মিতুর স্বামী রাতুলের সঙ্গে তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। দুটি পরিবার অর্থনৈতিকভাবে সমান না হওয়ায় এই দ্বন্দ্ব চলছিল। মিতুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলের বয়স পাঁচ বছর। এমন অবস্থায় কারো অন্তত আত্মহত্যা করার কথা নয়।