ফোনকলের সূত্র ধরে হত্যাকারী শনাক্ত

রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়কের পাশে পড়ে থাকা অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। খিলক্ষেত থানাধীন ঐ সড়কে গত বছর ১৬ জুন রাতে হত্যার শিকার সুমি হাসান নামের ঐ নারীর মোবাইল ফোনের তিনটি নম্বরের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে তিন খুনিকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গ্রেফতারকৃতরা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে পরস্পর যোগসাজশে সুমি হাসানকে শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টা করেছিল বলে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো—ফারুকুল ইসলাম, কাজী ইমরান মাহমুদ ও সালাউদ্দিন খলিফা ওরফে সুমন।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, গত বছরের ১৯ জুন খিলক্ষেত থানাধীন পূর্বাচল থেকে ঢাকাগামী ৩০০ ফুট সড়কের দক্ষিণ পাশের ঝোপের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ দেখতে পেয়ে খিলক্ষেত থানা পুলিশ খবর দেয় সিআইডি ক্রাইমসিন টিমকে। সিআইডি অজ্ঞাতনামা নারীর লাশের ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োলজিক্যাল এভিডেন্স সংগ্রহ করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জানা যায় ঐ অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয়। তার নাম সুমি হাসান (৩০)। গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার ছিকটিবাড়ীতে তার বাড়ি। সুমি হাসানের স্বামীর নাম জাহিদ হাসান। পেশায় তিনি ড্রাইভার এবং তিনি বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। জাহিদ হাসানের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে জানা যায়, ঘটনার সময় তার অবস্থান ছিল জিগাতলায়। জিগাতলা থেকে জাহিদ হাসানকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তিনি সুমি হাসানের প্রাক্তন স্বামী। তিনি সুমি হাসানের পালক বাবা-মার ঠিকানা জানেন। পরে তাকে নিয়ে তার পালক মা আম্বিয়া খাতুনের বাড়িতে গিয়ে সুমি হাসানের ছবি দেখালে তিনি তাকে শনাক্ত করেন। এরপর সুমি হত্যার ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা হয়। পালক মা আম্বিয়া খাতুনের কাছ থেকে সুমি হাসানের মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে তা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সুমি জীবিত অবস্থায় সর্বশেষ অর্থাত্ গত বছরের ১৮ জুন তিনটি নম্বরে কথা বলেন। সেসব নম্বরের অবস্থান খিলগাঁওয়ের নাগদারপাড়া ও শেখের জায়গা। নম্বর তিনটির রেজিস্ট্রেশন পর্যালোচনা করে গ্রাহকের নাম ফারুকুল              ইসলাম (৪৩), কাজী ইমরান মাহমুদ (৩২) ও সালাউদ্দিন খলিফা ওরফে সুমন (৩৮) বলে তথ্য মেলে। ফোনকলের তথ্য সূত্র ধরে ঐ তিন জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে তিন জনই সুমি হাসানের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে।

শেখ ওমর ফারুক বলেন, গ্রেফতাররা জানান, সুমি হাসান শারীরিক সম্পর্কের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিন জনই ৩০ হাজার টাকা তাদের কাছে নেই বলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। টাকা না দিলে ভুক্তভোগী সুমি আসামি ফারুকের স্ত্রীকে সব বলে দেবেন বলে হুমকি দেন। এর পরই সুমিকে খুনের পরিকল্পনা করেন তারা। তারা পরস্পর যোগসাজশে সুমি হাসানকে গত ১৮ জুন রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। লাশ গুম করতে পরদিন সকালে অপরিচিত সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে ৩০০ ফুট সড়কের  পাশের ঝোপে ফেলে যায়।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, তদন্তকালে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, সুরতহাল প্রতিবেদন, আসামিদের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, আইটি ফরেনসিক রিপোর্ট, ডিএনএ প্রোফাইল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়, গ্রেফতারকৃত তিন জন অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক, শ্বাসরোধ করে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টা করেন। সিআইডি তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে।