শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলতে পারলে বিকল্প মূল্যায়নের চিন্তা :শিক্ষামন্ত্রী

এখন পর্যন্ত ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তই রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে তিনি বলেছেন, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া না যায় এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে বিকল্প মূল্যায়নের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযানের অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জ জাজিরা মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসা, ইডেন মহিলা কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, আগারগাঁও মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং সরকারি                 তিতুমীর কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছরের শেষে এবং এ বছরের শুরুতে সংক্রমণের হার কমে আসলেও এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগামী। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫ শতাংশের নিচে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো একটা পরিস্থিতি হয়। কিন্তু এখনো সংক্রমণের হার ১৩ শতাংশের বেশি। স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণ কমবে। কিন্তু আমরা তা মানছি না বলেই বারবার খারাপের দিকে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আরো কিছুদিন হয়তো দেখতে হবে। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একবারেই খোলা সম্ভব হচ্ছে না তখন আমরা বিকল্প অনেক কিছুই চিন্তা করে রেখেছি। সব রকমের সিনারিও চিন্তা করে কী কী সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে সেটা নিয়ে কাজ করছি। যদি পরীক্ষা নেওয়া না যায় তাহলে কীভাবে বিকল্প মূল্যায়ন হতে পারে, সেগুলো আমরা ভাবছি। কিন্তু পরীক্ষা হবে কি হবে না, এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। হয়তো বা খুব শিগিগরই সিদ্ধান্ত নিতে পারব। সেটা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে যাই হোক শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী  বলেন, পরীক্ষার চাপ রেখে আনন্দের মধ্য দিয়ে কীভাবে পরীক্ষার্থীরা শিখবে সেটা নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অ্যাসাইনমেন্ট এক ধরনের পরীক্ষা। আমরা অনেক রকম মূল্যায়নের চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা এবং শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইন গেমস-এ আসক্ত হয়ে না পড়ে সে বিষয়ে নজর রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান দীপু মনি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।