পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সন্ত্রাস প্রশ্নে ফের সরব পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এ নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে আলোচনা করতে গতকাল মঙ্গলবার দিল্লি গেছেন তিনি। আজ বুধবার তাদের এ বৈঠক হওয়ার কথা। যাওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিলেন কড়া চিঠি। বললেন, ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করা হোক। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সন্ত্রাসের অভিযোগ জানিয়ে আসছে বিজেপি। এ নিয়ে গত সোমবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির ৫১ এমএলএর প্রতিনিধি দল রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে। এরপরই রাজ্যপালের হঠাত্ দিল্লি যাত্রা। সূত্রের খবর, এই যাত্রায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তিনি আলোচনায় বসতে পারেন।
মমতা ব্যানার্জিকে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে লেখা চিঠিতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসা, রক্তপাত, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত। লাগাতার নারী নির্যাতন, বিরোধীদের সম্পত্তি ধ্বংসও চলছে। অথচ গোটা ঘটনায় আপনি আশ্চর্যজনকভাবে নীরব এবং নিষ্ক্রিয়। বারবার দৃষ্টি আকর্ষণের পরেও মন্ত্রিসভায় এক দিনও আলোচনা করেননি। দুর্গতদের স্বার্থে কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। এভাবে মানবাধিকার ও মর্যাদা লঙ্ঘন গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জার। আইন অনুযায়ী প্রশাসন ও পুলিশের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কিন্তু তেমন কিছু ঘটছে না। দুর্গতরাই প্রশাসন ও পুলিশকে ভয় পাচ্ছেন’। এর প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক বলেন, ‘রাজ্যপাল আদতে বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিস হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সাজানো চিত্রনাট্য অনুযায়ী, তিনি এ ধরনের কাজ করে চলেছেন। কেউ আক্রান্ত হলে তালিকা দিন।’
বিজেপিতে দলছুট হওয়ার আশঙ্কা
এদিকে, বিজেপিতে দলছুট হওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিছুদিন আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এমপি সুনীল মণ্ডল। গতকাল মঙ্গলবার হঠাত্ তিনি বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা শুরু করেছেন। বললেন, ‘বাইরে থেকে যারা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির হয়ে প্রচারে এসেছিলেন, তাদের বোধবুদ্ধির অভাব ছিল। ভাষাগত সমস্যাও ছিল। রাজনৈতিক জ্ঞানও ছিল না। যারা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গেছে, তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করা হচ্ছে না। মনে করছে, এদের বিশ্বাস করা যায় না। এটা ঠিক নয়।’ অন্যদিকে কালিয়াগঞ্জনের এমএলএ সৌমেন রায় দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েছেন। তিনি মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কলকাতার সাবেক মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। হঠাত্ই তিনি মমতার প্রশংসা শুরু করেছেন। বললেন, ‘নির্বাচনের সময় মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বিজেপির নেতারা ভালো করেননি।’