গানের মাঝেই স্বপ্ন আঁকা

 

গানের মাঝেই তারা স্বপ্ন আঁকেন হূদয়ের ভালোবাসা দিয়ে। দুই প্রজন্মের দুজন নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে গানের ভুবনে সফল হয়েছেন। তারা হলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক, সুরকার, গীতিকার, গায়ক শওকত আলী ইমন এবং এই প্রজন্মের গীতিকার এ মিজান। সম্প্রতি এই দুই গুণীকে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এক আনন্দ আড্ডার। সেখানে তারা বলেছেন জুটি হিসেবে তাদের গানের নানা গল্প ও ভাবনা নিয়ে। সেই আলাপচারিতার চুম্বক অংশ তুলে ধরছেন খালেদ আহমেদ

 

অনেক স্বপ্ন নিয়ে সবাই কাজ নিজের পছন্দের কোনো প্ল্যাটফর্মে। কখনো নাটক, কখনো গান লিখে বা গেয়ে কিংবা সুর করে বনে যান তারকা। কেউ কেউ নিজেদের খ্যাতি ধরে রাখতে পারেন, আবার কেউ হয়তো নিজের অর্জিত জায়গা থেকে ছিটকে পড়েন। গানের জগতে কাজ করে দীর্ঘদিন নিজের সফলতা ধরে রেখেছেন সংগীত পরিচালক ইমন। চার শতাধিক গানের তিনি সংগীতায়োজন করেছেন। ইমনের সুরে কণ্ঠ দিয়ে সংগীত জীবন শুরু করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর, দিনাত জাহান মুন্নীসহ আরো অনেকে। অপরদিকে এ মিজান পেশায় সাংবাদিক হলেও গান লিখছেন দীর্ঘদিন ধরেই। এরই মধ্যে তার লেখা বেশ কয়েকটি গান শ্রোতাদের হূদয় জয় করেছে। ইস্কাটন গার্ডেনে শওকত আলী ইমনের নিজস্ব স্টুডিওতে তাদের সঙ্গে আড্ডায় বসেছিলাম। আষাঢ়ের এক বিকেলে জম্পেস আড্ডায় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি প্রহর। শুরুতে দুই গুণী মানুষের কাছেই জানতে চাওয়া হয় একটি গান সৃষ্টির পর অনুভূতি কেমন? জবাবে একগাল হেসে ইমন বললেন, ‘প্রতিটি সৃষ্টির মাঝে এক ধরনের আনন্দ থাকে। তাই গানের সুর ও সংগীতায়োজনের পর নিজের ভেতরে ভালো লাগার একটি অনুভূতি ছুঁয়ে যায়।’ তার কথা শেষ হতেই মিজান বলেন, ‘গান লেখার পর আমার নিজেকে অনেক হালকা লাগে।’ হালে শওকত আলী ইমন ও এ মিজান জুটির আলোচিত দুটি গান হলো— ‘রং’ ও ‘রঙ্গিলা হাওয়া’। প্রথমোক্ত গানটি গেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী পলিন। এই গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন নায়িকা নিপুণ। এই গানটি ভাইরাল হয়। ‘রঙ্গিলা হাওয়া’  গানটি গেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী লুইপা। এর মিউজিক ভিডিওতে মডেল হন লুইপা ও চিত্রনায়ক রোশান। জানা গেলো, শিগগির বিগ বাজেটের কিছু গান আসবে। এরমধ্যে আসিফ আকবর, লিজাসহ অনেকগুলো গানের কাজ চলছে। গীতিকার এ মিজানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বিষয়ে জানতে চাইলে ইমন বলেন, ‘মিজানের সঙ্গে কাজ করছি প্রায় তিন বছর। এ পর্যন্ত ৪০টির বেশি গান করেছি। গান আরও বেশি হতো। তবে করোনার কারণে কাজ বন্ধ ছিল এক বছরের মতো। তার মধ্যেও কাজ করেছি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমার বিভিন্ন গীতিকারের সঙ্গে কেমিস্ট্রি হয়। এক সময় আমার বন্ধু গুণী গীতিকার কবীর বকুলের সঙ্গে কাজের কেমিস্ট্রি ছিল অসাধারণ। আমার বেশির ভাগ জনপ্রিয় গান তার লেখা। কালের বিবর্তনে বিভিন্ন গীতিকারের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। এই সময়ে এসে মিজানের সঙ্গে আমার কেমিস্ট্রি হয়েছে। তার সঙ্গে কাজে একটা কমফোর্ট জোন তৈরি হয়েছে, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি মনে করি সে আরও বড় হবে। একটি কথা না বললেই নয়, গত বছর  ‘বাংলার গায়েন’ রিয়েলিটি শো’তে সেতু নামের একটি মেয়ে ফার্স্ট রানারআপ হয়েছিল মিজানের লেখা গান গেয়ে। ‘সাড়ে তিন হাত দেহের ভেতর’ টাইটেল সংটি অসাধারণ লিখেছে মিজান। গানটির সুর ও সংগীতায়োজন ছিল আমারই। ওই গানটি বেশ আলোচিত হয়েছে।’ একজন সংগীত পরিচালক হিসেবে ইমনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কোন বিষয়টি ভালো লাগে? জবাবে মিজান হেসে বলেন, ‘ইমন ভাইয়ের মতো একজন গুণী মানুষের সঙ্গে কাজ করাটা আমার কাছে সৌভাগ্যের। কারণ ছোটবেলা থেকেই তার গান শুনে শুনে বড় হয়েছি। তাই তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান ও ধন্য মনে করি। তার সঙ্গে কাজ করার সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয়টি হলো—আমি যেন নতুন করে গান লেখা শিখছি। সত্যি বলতে কি, তিনি খুব আদর ও স্নেহ দিয়ে আমাকে দিয়ে গান লিখিয়ে নেন। মানে গানের কোনো শব্দ ঠিক না হলেও তিনি রাগ করেন না, বরং সুন্দর করে বুঝিয়ে দেন শব্দটি কী হবে। মূলকথা হলো—ইমন ভাই, একটা কৌশল ভালোই জানেন— কীভাবে ভালো গান লিখিয়ে নিতে হয়। তার কাছে প্রতিনিয়তই আমি নতুন নতুন বিষয় শিখছি। তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা অশেষ।’