সেই মিনু অবশেষে মুক্ত

চট্টগ্রামে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে তিন বছর সাজা খাটা মিনু আক্তার অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকাল ৫টায় তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর কারা ফটকের সামনে অপেক্ষমাণ ভাইয়ের সঙ্গে চলে যান নিজ বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু উপজেলায়।

মিনু আক্তারের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ ইত্তেফাককে জানান, ২০০৬ সালে নগরের কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ এলাকায় এক পোশাককর্মীকে গলা টিপে হত্যার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান কুলসুমি নামে এক নারী। ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর কারাগারে কাটানোর পর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে মামলার রায়ে আদালত কুলসুমিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করে। রায়ের দিন কুলসুমি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমি সেজে আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান মিনু আক্তার। ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল কুলসুমির নামে মিনুর টিপসই নিয়ে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট আপিল গ্রহণ করে। কয়েক দফা শুনানির        পর নিম্ন আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে মিনুকে জামিনে সাময়িক মুক্তির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। গত মঙ্গলবার মিনুর পক্ষে মুক্তির বন্ড নির্ধারণের জন্য চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ (চতুর্থ আদালত) আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক মিনুর মুক্তির বন্ড দাখিল করার পর বিচারক মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দেন।