শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বছর জুড়েই চলচ্চিত্রনির্ভর নানা কার্যক্রম থেকে উত্সব আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘তৃতীয় বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উত্সব ২০২১’। অনলাইনে হতে যাওয়া আট দিনের এ উত্সবে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র মিলিয়ে ১১৯টি চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। ৮১টি কাহিনিচিত্রের সঙ্গে প্রদর্শিত হবে ৩৮টি প্রামাণ্যচিত্র। এবারের উত্সব উত্সর্গ করা হয়েছে উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকার হীরালাল সেনকে। করোনাকালের দুঃসময়ে শিল্পকলা একাডেমির ফেসবুক পেজে দেখা যাবে উত্সবের জন্য নির্বাচিত ছবিসমূহ।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় তৃতীয় বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উত্সবের ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ । বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন, চলচ্চিত্র গবেষক ও লেখক অনুপম হায়াত্, চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিভাত রেজা চৌধুরী। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন একাডেমি নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক আফসানা করিম। উত্সবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে গতকাল বুধবার একাডেমির ফেসবুক পেজে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ভার্চুয়াল এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী এবং একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক আফসানা করিম।
লিয়াকত আলী লাকী বলেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে নানামুখী কাজ করে চলছে। ২০১৫ ও ২০১৭ সালে দুই বার ৬৪টি জেলায় একযোগে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উত্সব’ আয়োজন করেছে। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ৬৪টি জেলায় ‘বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উত্সব’ আয়োজন করেছে। ২০১৭ সালে দেশব্যাপী ৬৪ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ শিশু চলচ্চিত্র উত্সব’। এছাড়া ৬৪টি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ফিল্ম সোসাইটি গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উত্সবের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি এবং প্রামাণ্য চলচ্চিত্র উভয় শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিশেষ জুরি শাখায় মোট সাতটি পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা ও শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনায় আরো চারটি পুরস্কার দেওয়া হবে। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য থাকছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা পাবেন ১ লাখ টাকা। বিশেষ জুরি পুরস্কার ৫০ হাজার, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা ২৫ হাজার, শ্রেষ্ঠ শব্দ পরিকল্পনা ২৫ হাজার এবং শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা পরিকল্পনার জন্য ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কারের জন্য বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের জুরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর বাইরে উত্সব উপলক্ষ্যে তিনটি মাস্টার ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছে। ২১ জুন সন্ধ্যা ৬টায় ‘মিজ-অঁ-সিন’ বিষয়ক ক্লাসের প্রশিক্ষক থাকবেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী। ২২ জুন সন্ধ্যায় ‘পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের প্রামাণ্যচিত্র’ বিষয়ে ক্লাস নেবেন শবনব ফেরদৌসি। ২৩ জুন সন্ধ্যায় ‘সিনেমাটোগ্রাফি’ বিষয়ের প্রশিক্ষক থাকবেন এল অপু রোজারিও।