জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ধুপখোলায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ দখল করে সেখানে মার্কেট ও পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
সিটি কর্পোরেশন ঢাকার গেণ্ডারিয়া এলাকায় ধূপখোলায় তিনটি মাঠের মধ্যে একটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জমিটি খেলার মাঠ হিসেবে দেয়। এরপর থেকে এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ হিসেবে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে এটি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে তাদের বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনা ও শরীরচর্চা করে থাকে। এই মাঠেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় সাত একর আয়তনের ধূপখোলা মাঠটি তিন ভাগে ভাগ করা। একটি অংশ জগন্নাথ বিশ্বশ্বদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। বাকি দুটি অংশ ইস্ট এন্ড ক্লাব মাঠ ও স্থানীয় খেলার মাঠ। পুরো মাঠের মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
পূর্বের পরিকল্পনা হিসেবে গত ১০ জুন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা ও সিটি কর্পোরেশনের সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হরিদাস মল্লিক মাঠের ভেতর ম্যাপ অনুযায়ী মাঠের চার কর্নারে খুঁটি বসান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে মাঠের মধ্যে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনায় বিষয়টি নজরে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে গ্যালারিসহ খেলার মাঠ, শিশু কর্নার ও পশ্চিম পাশে একটি বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা হবে। ডিএসসিসি বলছে, মাঠের চারপাশে থাকা দোকানগুলো স্থানান্তর করতে এই মার্কেট করা হবে। চারপাশে দেয়ালের পরিবর্তে গ্রিলের ব্যবস্থা করা হবে। ধূপখোলা মাঠটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। ডিস্টিলারি রোড, দীননাথ সেন রোড, কেশব ব্যানার্জি রোড, শশীভূষণ চ্যাটার্জি লেন, রজনী চৌধুরী রোড, সাবেক শরাফতগঞ্জ লেন, সত্যেন্দ্র কুমার দাস রোড এলাকা নিয়ে এই ওয়ার্ড গঠিত। এসব এলাকার প্রায় সব কটি সড়ক খানাখন্দে ভরা, পয়োনিষ্কাশন-ব্যবস্থা প্রায় অকার্যকর। ডিস্টিলারি রোডে অবৈধভাবে বসছে কাঁচাবাজার। এতে সড়কটিতে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা এসকল অবৈধ স্থাপনা থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে।
এবিষয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা বলেন, আমরা মাঠ সংস্কার করার জন্য খুঁটি দিয়েছি। এটি সিটি কর্পোরেশনের কাজ।
সিটি কর্পোরেশনের প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হরিদাস মল্লিক জানান, ধূপখোলার পুরো মাঠজুড়ে মার্কেট, ক্রিকেট খেলার মাঠ, কিডস কর্ণারসহ আরও বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। আগে মাঠের চার পাশের পুরাতন ভবন ভেঙ্গে সেখানে নতুন করে মার্কেট করা হবে। সাথে সাথে খেলার মাঠ সংস্কার করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল হাশেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা কার জায়গা সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমরা আমাদের জায়গা ডেভেলপ করব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সেটি শুধু ব্যবহার করবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা জানান, সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় এলাকার প্রভাবশালী লোকজন মার্কেট বানাতে চাচ্ছে। এটি তাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের সহকারী রেজিস্ট্রার কাজী মনির বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা মার্কেট করছে। ইতোমধ্যে ভিতরে পিলার তুলেছে। আমরা ক্রীড়া কমিটির সভাপতি ট্রেজারার স্যারকে জানিয়েছি। তিনি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি। গেণ্ডারিয়া থানার ওসি ও সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বলেছি। প্রকল্প পরিচালককে কঠোরভাবে বলেছি কাজ বন্ধ করতে। এছাড়াও আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে এই বিষয় নিয়ে বসবো। যদি সে সুযোগ না হয়, আমরা সিটি কর্পোরেশনকে চিঠির মাধ্যমে অভিযোগ জানাবো।
ক্রীড়া কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছে আমরা চিঠি দিয়েছি। এই মাঠ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই মাঠেই আমাদের সমাবর্তন হয়েছে। আমরা সব তথ্য-উপাত্তসহ মেয়রকে চিঠি পাঠিয়েছি।
ইত্তেফাক/এমএএম