অবৈধভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও এনআইডি সরবরাহ করার অভিযোগে পুলিশের তিন পরিদর্শক, নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা এবং ১৩ রোহিঙ্গাসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এর উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এ মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন : কুমিল্লার অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন, পটুয়াখালী জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম অফিসের পরিদর্শক এস এম মিজানুর রহমান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রুহুল আমিন, রংপুর ডিআইজি রেঞ্জ অফিসের পরিদর্শক প্রভাষ চন্দ্র ধর এবং রোহিঙ্গা নাগরিক মো. তায়েব, মো. ওয়াসেস, মো. ইয়াহিয়া, মো. রহিম, মো. আবদুর রহমান, মো. আবদুস সাকুর, নূর হাবিবা, আমাতুর রহিম, আসমাউল হুসনা, নুর হামিদা, আমাতুর রহমান, মো. ওসামা ও হাফেজ নুরুল আলম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থানার তত্কালীন বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মিজান রোহিঙ্গা শরণার্থী আমাতুর, ওসামা, হুসনা, নুরুল আলম, সাকুর ও আবদুর রহমানের আবেদন করা পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময় ইতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। পরিদর্শক প্রভাস রিপোর্টগুলো যাচাই না করেই এসপির কাছে প্রতিবেদন পাঠান এবং এসপি তাদের অনুমোদন দেন। পরে রোহিঙ্গারা তা ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পায় ।
দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ইসির অফিসে জমা দেন ,যা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় তত্কালীন কক্সবাজারের নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেলকে। তবে মোজাম্মেল রোহিঙ্গাদের পক্ষেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। একে অপরের সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও এনআইডি পেতে সহায়তা করায় দুদক মামলাটি দায়ের করেছে।