সীমান্ত জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। একই সঙ্গে এর বাইরের জেলাগুলোতেও করোনায় আশঙ্কাজনক হারে শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন চলছে আবার কোথাও লকডাউন, বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
রাজশাহী: সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এলাকায় লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। বুধবার রাতে সার্কিট হাউজে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অভিজিত্ সরকার এ তথ্য জানান।
পঞ্চগড়: সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সর্বোচ্চ ১২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলতি এক সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ে নমুনা পরীক্ষা এবং করোনা আক্রান্ত শনাক্ত দুটিই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কারো শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা: মৃত্যু ও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে লকডাউন বাড়ল আরো এক সপ্তাহ। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ভার্চুয়াল মিটিংয়ে লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আরো তিন জন, শ্যামনগর ও দেবহাটায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে দ্বিতীয় দফার সাত দিনের লকডাউন।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ: সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না। এতে সংক্রমণ বেড়ে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিলেট বিভাগের চার জেলাই সীমান্ত জেলা। তাই এ বিভাগে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি। সীমান্ত জেলা সুনামগঞ্জের সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু বললেন, সীমান্ত জেলাগুলোতে যেরকম করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে নিজ থেকে সচেতন হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালের চিত্র ভয়াবহ। বিভিন্ন ধরনের রোগীর সঙ্গে আসা লোকজনের মধ্যে কোনো সচেতনতা নেই। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনিছুর রহমান বৃহস্পতিবার ইত্তেফাককে বলেন, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সচেতন হতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা: দামুড়হুদা উপজেলায় করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর হার দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ায় টানা ১৪ দিনের লকডাউনের তৃতীয় দিন চলছে। বুধবার নতুন দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৯ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান জানান, বুধবার আসা রিপোর্ট অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গায় এটি এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেবিকা এবং ওষুধ মজুত আছে। অক্সিজেনেরও ঘাটতি নেই।
নোয়াখালী: সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ল। নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০১ জন এবং মারা গেছেন দুই জন। ৩৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০১ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার।
দিনাজপুর: আশঙ্কাজনক হারেই বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। দিনাজপুরে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। যা করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ শনাক্তের হার বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ফোকাল পার্সন ডা. শাহ মো. এজাজ-উল হক জানান, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ শনাক্তের হার।
নাটোর: নাটোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, নাটোরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৬ জন শনাক্ত হয়েছেন। নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২৮ জনের। সংক্রমণের হার ৫১.৫০ শতাংশ। এদিকে কঠোর লকডাউন দিয়েও থামানো যাচ্ছে না আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বগতি। মুখে মাস্ক পরা থাকলেও জনসংখ্যার ঘনত্বের বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হচ্ছে না সাধারণ মানুষের। জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে নাটোর ও সিংড়া পৌর এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি