বা জে ট বি শ্লে ষ ণ

সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়লেও যথেষ্ট নয়

 

মো. তানজিল হোসেন

বাং লাদেশের অর্থনীতির অবস্থা করোনার প্রভাবে ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দিব কোথা’-র মতো। এখানে এক খাতে বরাদ্দ বাড়ালে আর এক খাতে ঘাটতি দেখা যায়। প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ভালো ও খারাপ দিক দুটোই বিদ্যমান। করোনায় দ্বিতীয় ঢেউকে মনে রেখে গত ৩ জুন সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬,০৩,৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। এবারের বাজেটে করোনার টিকা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, জীবন ও জীবিকাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

২০২০-২০২১ অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীয় অর্থ বরাদ্দ ছিল প্রায় ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থ বছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর খাতে বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। গত বছর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৬ লাখ। এবার অনুমান করা হচ্ছে উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার জরিপ হতে দেখা যায় করোনার সময় বাংলাদেশে অতিরিক্ত দরিদ্র হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ মানুষ। এক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হলেও প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা সর্বজনীন নয়। এখানে সঠিক দরিদ্রদের হাতে সহায়তা পৌঁছাচ্ছে কমই।

বাংলাদেশের তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবার মান খুবই নিচুমানের। ২০২১-২২ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা টিকা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে থোক বরাদ্দ। টিকা সংগ্রহ ও উত্পাদন খাতে এই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে।

বর্তমানে দরিদ্রদের দরিদ্রতা দূরীকরণে সবচেয়ে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ হলো ওএমএস বা ওপেন মার্কেট সেল। এটা সর্বজনীন একটি উদ্যোগ। আগামী অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ লাখ টন, চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে খাদ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টন। করোনাকালীন অতিরিক্ত দরিদ্র হওয়া লোকের জন্য অতিরিক্ত খাদ্য ক্রয় করে কম দামে ওএমএসের মাধ্যমে বিক্রি করলে অনেক দরিদ্র মানুষ উপকৃত হবে।

২০২১-২২ শিক্ষা বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা যা জাতীয় বাজেটের মাত্র ১১.৯২ শতাংশ। জাতীয় আয়ের (জিডিপি) হিসেবে তা ২.০৮ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অপ্রতুল, তাছাড়াও বাজেটের বড় ব্যয় চলে যায় মূলত বেতন, ভাতা পরিচালন ব্যয় এবং অবকাঠামো উন্নয়নে। অতি সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেল ফাইমন্ডস (কিউএফ) বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিং ২০২২ প্রকাশ করেছে। তাতে বিশ্বের প্রথম ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তাই বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণমান উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সঙ্গে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও বাজেট বরাদ্দ সার্থক হবে।

—সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়