মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
মিরসরাইয়ে অনলাইন জন্মনিবন্ধন করানোর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি খোলার জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার জন্য উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের তথ্য সেবাকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। এ সুযোগে ইউনিয়ন পরিষদ ও ডিজিটাল তথ্য সেন্টারগুলো জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করছে। তথ্য সেবাকেন্দ্রগুলো নিবন্ধন ফি ৩০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এছাড়া জন্মনিবন্ধন ফির পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং টেক্স, চৌকিদার টেক্সসহ বিভিন্ন ফি দিতে হচ্ছে নাগরিকদের।
জানা গেছে, জন্ম বা মৃত্যুর পর ৪৫ দিন পর্যন্ত নিবন্ধন বিনা ফিতে করে দেওয়ার বিধান রয়েছে। জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিবন্ধন ফি ২৫ টাকা। পাঁচ বছরের পর থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা। জন্মতারিখ সংশোধন ফি ১০০ টাকা এবং নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা সংশোধনের ফি ৫০ টাকা। জন্ম বা মৃত্যুনিবন্ধনের ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত থাকলেও উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ফির কোনো তালিকা টাঙানো নেই।
উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন করতে যাওয়া আলেয়া বেগম জানান, তার মেয়ের ইউনিক আইডি কার্ড করার জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হওয়ায় পরিষদে যান। পরবর্তী সময়ে অনলাইনে বাংলা ও ইংরেজি কার্ড নিবন্ধনের জন্য প্রতিটি ১৫০ টাকা করে ও কার্ড নেওয়ার সময় হোল্ডিং টেক্স, চৌকিদারি টেক্সও দেওয়ার কথা বলেন।
উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মো. আলমগীর হোসেন, তিনি হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার নিজের, স্ত্রী ও তিন সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করেন ২০১২ সালে। কিন্তু অনলাইন থেকে তার প্রথম সন্তানের জন্মনিবন্ধন সনদ বের করতে তার কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপর প্রতিটি জন্মনিবন্ধনের জন্য তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫০০ টাকা করে।
মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বিকাশ ধর জানান, পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন করেছে কিন্তু অনলাইন হয়নি সেগুলো নতুন করে অনলাইনের আবেদন করতে হবে। এখন পুরাতন জন্মনিবন্ধন অনলাইনে দেওয়ার সুযোগ নেই। মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমাকে ফোনে জানাচ্ছেন। সরকারি ফির বাইরে প্রতি নিবন্ধনের জন্য উদ্যোক্তারা ৫০-১০০ টাকা বেশি নিতে পারেন, কিন্তু পরিষদের সচিবরা এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেয়। বাড়তি টাকা আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বরাবরে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে এবং কোনো অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।