মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে দফায় দফায় গোখাদ্যের দাম বাড়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন খামারিরা। তারা জানিয়েছেন, গোখাদ্যের দাম না কমলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে বিপুলসংখ্যক গরু, ছাগল ও মহিষ মোটাতাজা করছেন খামারিরা। কিন্তু ঈদ যতই এগিয়ে আসছে গোখাদ্যের দাম ততই বেড়ে চলেছে। এতে খামারিদের খরচ বাড়ছে। খামারিরা জানান, গমের ভুসি ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৪৮০ টাকা বস্তা, ভুট্টার গুঁড়া ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা বস্তা, যব ৩৮ টাকা কেজি, ধানের কুড়া ৫০০ থেকে ৫৬০ টাকা বস্তা, খৈল ২ হাজার ৭৫০ টাকা বস্তা এবং ঘাস প্রতি মুঠা ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাউফিড প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা। অ্যাংকর ডালের ভুসি ৮০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। ধানের খড় কিনতে হচ্ছে ৬০০ টাকা মণ দরে। এ অবস্থায় গোখাদ্যের দাম কমানো না হলে খামার রাখা অসম্ভব হয়ে উঠবে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ীতে মিল্ক ভিটাকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠে হাজার হাজার গরুর খামার। ঐসব খামারে উন্নতজাতের গাভি পালন করে জেলার হাজার হাজার খামারি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ উত্পাদন হয়। উত্পাদিত এ দুধের প্রায় ১ লাখ লিটার মিল্ক ভিটা ও ৫০ হাজার লিটার অন্যান্য বেসরকারি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি সংগ্রহ করে। অবশিষ্ট প্রায় ২ লাখ লিটার দুধ সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের জেলার বাজারগুলোতে বিক্রি হয়। খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুগ্ধ খামারিরাও পড়েছেন বিপাকে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এ বছর জেলায় ১৭ হাজার খামার গড়ে উঠেছে। যেখানে লক্ষাধিক পশু পালন করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জে সদর উপজেলার খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর আমার খামারে ২৫টি ষাঁড় রয়েছে। ঈদ সামনে রেখে গরুগুলোকে মোটাতাজাকরণ করছি। তবে গরুর খাবারের দাম বেশি হওয়ার কারণে খরচ বেড়েছে। কোরবানির হাটে গরুর ভালো দাম পাব কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছি। মিল্ক ভিটার পরিচালক ও রেশমবাড়ি দুগ্ধ সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ ফকির জানান, গোখাদ্যের দাম আগের তুলনাই অনেক বেশি। খামারিরা নিজে না খেয়ে গরু লালনপালন করছে। এক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা পেলে খামারিরা কিছুটা হলেও বাঁচতে পারবে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান ভূইয়া গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার চেষ্টা করছে এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। এরই মধ্যে জেলায় বিকাশের মাধ্যমে ১২ হাজার ৫৯৫ খামারিকে নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। আরো ৬ হাজার খামারিকে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া খামারিদের মধ্যে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে সরকারিভাবে। খামারিরা যাতে লোকসানে না পড়ে এজন্য গবাদিপশুর টিকাদানসহ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।