স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় প্রান্তিক কৃষকদের জন্য গড়ে তোলা মহাস্থান গ্রোয়ার্স মার্কেট ধীরে ধীরে পাইকারদের দখলে চলে গেছে। ফলে কৃষকরা এখানে তাদের উত্পাদিত কৃষিপণ্যর ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি নারীদের নামে দোকান বরাদ্দ থাকলেও তা চলে গেছে পুরুষ পাইকারদের হাতে। এতে গ্রোয়ার্স মার্কেটের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। কৃষি বিপণন দপ্তর ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিগত ২০০০ সালের দিকে বগুড়ার মহাস্থান হাটে দুইটি গ্রোয়ার্স মার্কেট ও তিনটি সেড নির্মাণ করা হয়। প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মহাস্থানে এই গ্রোয়ার্স মার্কেট ও সেড চালু করা হয়েছিল। ‘উত্তর-পশ্চিম শস্য বহুমুখীকরণ’ প্রকল্পের (এনসিডিপি) আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কিন্তু এ কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। নারীদের নাম দিয়ে মার্কেটগুলো দখলে নিয়েছে বিশেষ সুবিধাভোগী মহল।
সরজমিনে দেখা গেছে, গ্রোয়ার্স মার্কেটের মহিলা কর্নারে নেই নারীরা। ৩৩টি উচ্চমূল্য ফসল (ফল, সবজি, মসলা ও দানা শস্য) বহুমুখীকরণ ও নিবিড়করণের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সামনে একটি তালিকা বসিয়ে কৃষক সমিতির নামে ডাকের মাধ্যমে প্রকল্পটি নেয় তারা। প্যাকিং হাউজ, গ্রেডিং, শর্টিং, ওয়াশিং, ড্রাইং ইউনিট, লোডিং, আনলোডিং এরিয়া, স্টোরেজ গোডাউন, নারী কর্নার, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় তথা ট্রেনিং সেন্টার, স্যানিটারি ল্যাট্রিনসহ ড্রেন, রাস্তা ও ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয় এসব মার্কেটগুলোতে। মার্কেট এলাকার এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কৃষকদের একটি অংশ তাদের উত্পাদিত পণ্য বাজারজাত করবেন। কৃষকদের মধ্যে কেউ এসব পণ্য ঢাকা বা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রির জন্য নিয়ে যাবেন। এজন্য কৃষকদের কয়েক ধাপে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত কৃষকরা।
এনসিডিপির ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, প্যাকিং হাউজ, গ্রেডিং, শর্টিং, ওয়াশিং, ড্রাইং ইউনিট নামের একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে এক আলু ব্যবসায়ীকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই আলু ব্যবসায়ী জানান, আগে যেখানে ১ হাজার ২০০ টাকা প্রতি মাসে ভাড়া দিতাম এখন তা বাড়িয়ে নিচ্ছে ৩ হাজার টাকা। মোকামতলা এলাকার জাহেদুল ইসলাম জানান, এখানে তারা বেশ কয়েক জন ব্যবসা করেন। প্রতি বস্তা সবজি ৮ থেকে ১০ টাকা দিতে হয়।
মহাস্থান গ্রোয়ার্স মার্কেটের পরিচালক আইনুর ইসলাম বলেন, ‘এখনো আমাদের মেয়াদ অনেক রয়েছে। প্রতি মাসে আমরা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে টাকা পরিশোধ করি। নারীদের জন্য মার্কেট কারা পরিচালনা করছেন—জানতে চাইলে আইনুর ইসলাম জানান, নারীরা বাজারে এলে নানা লাঞ্ছনা ও বঞ্ছনার শিকার হবেন তাই তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
গ্রোয়ার্স মার্কেটের সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে, জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা শহরে নারীরা যাতে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এমন পরিস্থিতি এখনো বিকশিত হয়নি।’ মহাস্থান গ্রোয়ার্স মার্কেটের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে এমন সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘আমি অন্যত্র বদলি হয়েছি। তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না। নতুন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’
স্থানীয় রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথাও বলেছি। নজরদারি না থাকা ও কাগজপত্রে গরমিল থাকার সুযোগে পাইকাররা এর সুযোগ নিচ্ছে।’ শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম সম্পা বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। বাস্তব অবস্থা বুঝে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’