‘দায়িত্বশীল মহলের খণ্ডিত বক্তব্য ব্যবহার অনাকাঙ্ক্ষিত’

ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ নিয়ে ঢাবি কর্তৃপক্ষ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

দেশের কোনো কোনো দায়িত্বশীল মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত খণ্ডিত বক্তব্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের যথেচ্ছ ব্যবহারকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দুটি বিষয় বিশেষভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। বিষয়গুলো ইতিপূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ ‘ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ’ রূপে উপস্থাপন করেছেন। তখন সেটিকে বৃহত্তর সমাজের কিছু মানুষের ভিন্ন রুচি ও ভিন্ন মূল্যবোধ হিসেবে ধরে আমলে নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি, কোনো কোনো দায়িত্বশীল মহলও বিভিন্নভাবে সেসব যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করছেন, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। বস্তুত কিছু অসাধুচক্র কোনো অপতথ্য বারবার ব্যবহার করে সেটিকে তথ্যে পরিণত করতে চায়; যা জনমনে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে।

উপাচার্যের আলোচিত বক্তব্য চা-চপ-শিঙাড়ার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে টিএসসিতে নবীন শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি ক্যাম্পাসের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক গৌরবময় অধ্যায়, আর্থিক সংগতি, পারিবারিক পেশা, জাতি, ধর্ম-সংস্কৃতি ও জন্মস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতাভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি, সহজ, সরল, সাধারণ ও সাবলীল জীবনাচারের গুরুত্বের কথা উপাচার্য বলেন। এ সময় অনুষ্ঠানস্থল টিএসসির গৌরবময় ভূমিকাও প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাস্যরসে ক্যাফেটেরিয়ার সাধারণ, স্বল্পমূল্যের খাবার মেনু ও সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধার অবারিত সেবা কার্যক্রমের কথাগুলোও বলেন।

করোনা মহামারিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা মহামারির শুরুতে কোনো বিলম্ব ছাড়াই ২০২০ সালের ১৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞানী, জিন প্রকৌশলী ও প্রাণরসায়নবিদদের নিয়ে প্রথম ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ গঠন করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে কোভিড মহামারি প্রতিরোধে কতিপয় সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রস্তাবনা দেয়। তিনটি বিভাগের ল্যাবে পঠন-পাঠন ও নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি করে মোট তিনটি আরটি-পিসিআর মেশিন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যগুলো কনভেনশনাল পিসিআর মেশিন; সেগুলো কোভিড টেস্ট করার উপযোগী নয়। কমিটির মাধ্যমে বিভাগগুলো থেকে তিনটি আরটি-পিসিআর মেশিন এনে কারস ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে বায়োসেফিট নিশ্চিত করে তিন সপ্তাহে করোনা টেস্টিং ল্যাব তৈরি করা হয়।