এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর সন্ধান মিলেছে ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের (৩১)। সেই সঙ্গে তার তিন সঙ্গীকেও পাওয়া গেছে। ত্ব-হার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘নিখোঁজ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানসহ চার জনকে পাওয়া গেছে। আজ (গতকাল শুক্রবার ) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে তিনি তার রংপুরের বাসায় ফেরেন। তবে কীভাবে ফিরলেন, কোথা থেকে ফিরলেন—এসব বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।’
এদিকে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে রংপুুুর নগরের আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মাস্টারপাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্ব-হাকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর তাকে রংপুর মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রশিদ।
পরে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন ত্ব-হা ও তার তিন সঙ্গী। গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে সিয়াম নামের এক বন্ধুর বাড়িতে ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে। তার দুই সঙ্গী আমির ও মুহিতও আমাদের হেফাজতে আছে ও আরেক সঙ্গী ফিরোজ আলমকে বগুড়া থেকে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা সবাইকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে উপস্থাপন করব এবং আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হবে। তারা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চেয়েছিল কি না, তা-ও আমরা খতিয়ে দেখব। সংবাদ সম্মেলনে আবু ত্ব-হাকে সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়নি।
ত্ব-হার প্রতিবেশী বিপ্লব মিয়া জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবু ত্ব-হাকে তার শ্বশুর আজহারুল ইসলাম মণ্ডলের বাড়িতে ঢুকতে দেখেছেন তিনি। খোকন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা সাংবাদিকদের জানান, দুপুর ১২টার দিকে তিনি নগরীর মাস্টারপাড়ায় তাকে দেখেন। কিন্তু ত্ব-হা সে সময় কোনো কথা বলেননি। মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলেন।
রংপুরে ওয়াজ মাহফিল শেষে ঢাকার বাসায় ফেরার পথে আবু ত্ব-হাসহ চার জন নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ ছিল। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, গত ১০ জুন দিবাগত রাতে ঢাকার গাবতলী থেকে তারা নিখোঁজ হন। আবু ত্ব-হার সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন আরো তিন জন। এরা হলেন : আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন ফয়েজ। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শেষে তাদের না পেয়ে ১১ জুন বিকেলে ত্ব-হার মা রংপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন ।
পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ত্ব-হার মা আজেদা বেগম, বাবা মৃত রফিকুল ইসলাম ও ছোট বোন রিতিকা রুবাইয়াত ইসলাম। আদনানের প্রথম স্ত্রী আবিদা নুর, তাদের সংসারে তিন বছরের একটি মেয়ে ও দেড় বছর বয়সি একটি ছেলে রয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পর রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে নানার বাড়িতে বড় হন ত্ব-হা। বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নগরীর নিউ শালবন এলাকায় বসবাস শুরু করেন। কয়েক মাস আগে তিনি আরেকটি বিয়ে করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারা ঢাকার মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক। ত্ব-হা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো আরবি শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তিনি কারমাইকেল কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। কোরআন শিক্ষার জন্য কিছুদিন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় তালিম নেন। এ সময় তিনি আহলে হাদিস নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি রাজধানীর মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বলে জানা গেছে।