এক চিকিত্সকের দখলে সাত পদ, সরকারি গাড়ি ব্যবহারেও অনিয়ম

রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) কলেজ পরিদর্শক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদ দখলে রেখেছেন জামায়াতপন্থি চিকিত্সক অধ্যাপক জাওয়াদুল হক। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহারেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাইক্রোবাস (হায়েস) অবৈধভাবে সার্বক্ষণিক নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল অর্থের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিবের ঘনিষ্ঠ এই চিকিত্সক বর্তমান ভিসির ক্লাসমেট পরিচয় দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ তাকে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না ভয়ে। 

সূত্র মতে, অধ্যাপক জাওয়াদুল হক রামেবির প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোস্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, নিয়োগ কমিটির সদস্য, সংবিধি কমিটির আহ্বায়ক, ক্রয় কমিটির আহ্বায়ক। এছাড়া রামেবি আইন লঙ্ঘন করে কলেজ পরিদর্শক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ পদও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। বিধি লঙ্ঘন করে একই শিক্ষাবর্ষে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কমিটির আহ্বায়কও হয়েছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তিনি একাই রামেবির সব জনবল নিয়োগের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটি এমনকি উত্তরপত্র মূল্যায়ন কমিটিরও আহ্বায়ক হয়েছেন। এছাড়া তিনি              রামেবির অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার কেন্দ্র ভিজিলেন্স টিমের সদস্য, নিয়োগ ও পদন্নোতি বোর্ডের আহ্বায়ক/সদস্য, প্রশ্নপত্র সেটার-মডারেটরসহ আর্থিক সুবিধাসংশ্লিষ্ট অসংখ্য কমিটির সদস্য হিসেবে বিপুল আর্থিক সুবিধা নিয়ে চলেছেন।

রামেবি সূত্রে জানা যায়, নিয়মানুযায়ী ভিসি, প্রোভিসি ও কোষাধ্যক্ষ সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু ডিন, রেজিস্ট্রার, কলেজ পরিদর্শক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রমুখ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন না। এ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে শুধু বাসস্থান থেকে অফিসে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। ঐ গাড়িটি নিয়ে তিনি তার আরো দুই কর্মস্থল বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে (রামেক) যাতায়াতসহ ব্যক্তিগত সব কাজে ব্যবহার করছেন। এখানেই শেষ নয়, গাড়িটি তিনি রামেবির আর কাউকে ব্যবহার করতেও দেন না। গত নভেম্বর থেকে অবৈধভাবে গাড়িটি একক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তিনি।

সূত্রে আরো জানা যায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের (চুক্তিভিত্তিক) অধ্যাপক জাওয়াদুল হক সর্বত্র জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত হলেও সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে রামেবির সবকাজই নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।

অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি বিধি মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার করছি।’ রামেবির বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ডা. এ জেড এম মোস্তাক হোসেন উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, বিষয়গুলো তিনি অবহিত নন। গাড়ির লগবুক দেখে ব্যবস্থা নেবেন। অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে মিটিং করছেন। এক জন যাতে অনেক দায়িত্ব পালন করতে না পারে, সে জন্য দায়িত্বগুলো রিফর্ম করবেন। এক ব্যক্তি একাধিক দায়িত্বে থাকলে কাজের কোয়ালিটি কমে যায় বলেও জানান ভিসি।