প্রিমিয়ার লিগে বিবর্ণ সাকিব

আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর ২২ গজে যেন অচেনা রূপেই ধরা দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান। প্রত্যাবর্তনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হোম সিরিজটা খারাপ কাটেনি। তারপর থেকে স্বরূপে দেখা যাচ্ছে না সাকিবকে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে, আইপিএলে তিন ম্যাচ পরই একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন। পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় রান পাননি। পাঁচ বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ খেলতে নেমেও বিবর্ণ সাকিব। প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেনি তার ব্যাট। মোহামেডানের হয়ে ঘটনাবহুল প্রিমিয়ার লিগে ৮ ম্যাচ খেলেছেন বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার। যেখানে ১৫.০০ গড়ে ১২০ রান করেছেন ও ৯ উইকেট নিয়েছেন। যে পারফরম্যান্স বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের নামের পাশে বেমানানই বলা যায়। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে হয়তো হাঁপিয়ে উঠেছিলেন সাকিব। তাই তো মোহামেডানের হয়ে সুপার লিগ না খেলেই বাংলাদেশ ছেড়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। 

এর আগে ২০১৬ সালে আবাহনীর হয়ে প্রিমিয়ার লিগ খেলেছিলেন সাকিব। গত বছর নিষেধাজ্ঞার কারণে দলবদল করতে পারেননি। এবার ফ্রি প্লেয়ার হিসেবে মোহামেডান তাকে দলে টানে এবং অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দেয়। প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানকে সুপার লিগে তোলার মিশনে সফলতা পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তির অনুসঙ্গ পেয়েছেন তিনি। এবার লিগে বোলিংটা খারাপ ছিল না, তবে কয়েক বার ব্যাটিং পজিশন বদলেও বড় রান পাননি। ৮ ম্যাচে সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৭, শূন্য রানে ফিরেছেন দুই বার। তার ইনিংসগুলো ছিল এমন; ২৯, ০, ২০, ২, ২২, ০, ৩৭, ১০। পারফরম্যান্সের এই খরার মধ্যে বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন। গত ১১ জুন আবাহনীর বিপক্ষে স্টাম্পে লাথি, স্টাম্প উপড়ে ফেলে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হন এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানাও গুনতে হয়েছে। জৈব সুরক্ষা বলয়, ক্রিকেট ফেলে আগামী কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে কাটাতেই উড়াল দিলেন সাকিব।