১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করলেও ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ৫০ বছরেও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। বঞ্চিত এসব মুক্তিযোদ্ধা উপায় না পেয়ে স্বীকৃতির অন্তিম ইচ্ছায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। গত ৩ জুন ১০ মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে খোলা চিঠিটি দেন মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুর রহমান। এসব মুক্তিযোদ্ধা হলেন—পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হাঁড়িয়া গ্রামের মো. আবদুর রহমান, মো. আমজাদ হোসেন ও মো. আবদুল খালেক; চিনানাড়ী গ্রামের মো. মকবুল হোসেন, মো. লুত্ফর রহমান, মো. মোতাহার হোসেন, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. আবু তালেব এবং পাটগাড়ী গ্রামের মো. আবদুল আজিজ ও এ টি এম শাহজামাল।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা খোলা চিঠিতে আবদুর রহমান বলেন, আমরা এক দলে উক্ত তিন গ্রামের ১৪ জন ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। যখন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয় এবং পরে ঐ তালিকা হালনাগাদ করা হয়, তখন আমরা আবেদন করি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অদৃশ্য কারণে আমাদের দলের ১৪ জনের মধ্যে শুধু চার জন—মো. জহুরুল হক, মো. আলতাব হোসেন, মো. মোতাহার হোসেন ও মো. রইস উদ্দিনের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। আমাদের ১০ জনের নাম বাদ পড়ে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমান খোলা চিঠিতে আরো বলেন, এভাবে কয়েক বার বাদ পড়ার পর সর্বশেষ ২০১৩ সালে আমরা আবারও অনলাইনে আবেদন করি। আবেদন অনুযায়ী ২০১৭ সালে সাঁথিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যাচাই-বাছাই করে আমাদের ১০ জনসহ মোট ১৬৫ জনের একটি তালিকা জামুকাতে পাঠায়। জামুকা তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্য সাঁথিয়া ইউএনওর কাছে ফেরত পাঠায়। কিন্তু তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা জামুকাতে না পাঠানোর কারণে আবারও আমরা বঞ্চিত হই।