দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তান ত্যাগ করা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সামরিক জোট ন্যাটোর সৈন্যরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কিন্তু বিদেশি সেনারা সরে যাওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের আশঙ্কা করা গৃহযুদ্ধ দেশটিতে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি আরো ভয়াবহ হওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
ইউরোপীয়ান ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের (ইএফএসএএস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ মে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। আর ওই মাসেই দেশটিতে বিভিন্ন অস্ত্র সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৫ জন। অথচ এপ্রিল মাসে এ সংখ্যাটা ছিল ১ হাজার ৬৪৫ জন।
সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে বিভিন্ন হামলায় ৩৮৮ জন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন এবং মে মাসে এ সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৪ জন। তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদের দাবি, গত এক মাসে প্রায় ১ হাজার ৩০০ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তা আত্মসমর্পন করেছেন।
এ ছাড়া বিদেশি বাহিনীর সহায়তা ছাড়া গত এক মাসে অন্তত পাঁচটি জেলা ও দশটি নিরাপত্তা পয়েন্ট থেকে তালেবানদের কাছে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে আফগান সরকার। অন্যদিকে, আফগান সরকারের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গত মাসে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় অন্তত ৩ হাজার ৯৯১ জন তালেবান নিহত ও ২ হাজার ১৪১ জন আহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানে ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা এবং অনিশ্চয়তা রয়েছে যে সেটাই যেন সাম্প্রতিক এসব লড়াই ও ক্রোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে লক্ষণ প্রকাশ পায়। এমতাবস্থায় আঞ্চলিক ও জাতিগত নেতারাও গৃহযুদ্ধের শঙ্কায় অগ্রিম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তাজিক নেতা আহমদ মাসউদ হুমকি দিয়ে বলেন, যদি তালেবানরা সামরিক সমাধানের ওপর নিজেদের অবস্থান অব্যাহত রাখে, তাহলে আফগান মুজাহিদিন গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
ইত্তেফাক/টিএ