শেয়ারবাজার উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি

শেয়ারবাজারের

ভবিষ্যত্ ভালো —সালমান

এফ রহমান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের অর্থনীতিতে শেয়ারবাজারের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আর সামগ্রিকভাবে বাজার উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। কিন্তু আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও এখাতের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেই। ফলে শেয়ারবাজারে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় বেশ কিছু পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে এখাতের সংশ্লিষ্টরা। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে- পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর আরো কমানো, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ, মার্চেন্ট ব্যাংকের কর হার কমানো, মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তি, বাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং নতুন নতুন পণ্য চালু।

বাজেট নিয়ে গতকাল শনিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) যৌথভাবে এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. হাসান ইমাম, বিএমবিএর সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান এবং সিএমজেএফ সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল। সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেনের সঞ্চালনায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিএমবিএর সিনিয়র সহসভাপতি শুক্লা দাস।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরেছে। লেনদেন এবং বাজারমূলধন বেড়েছে অনেকগুণ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি বলছে, সারা বিশ্বের মধ্যে ‘বেস্ট পারফর্মিং’ শেয়ারবাজার বাংলাদেশে। গত এক বছর ধরে শেয়ারবাজারে নতুন ধরন দেখছি। নতুন কমিশন অনেকগুলো সুন্দর পদক্ষেপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের সমস্যা ইক্যুইটিভিত্তিক মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। বন্ড আসছে, সুকুক (ইসলামী বন্ড) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও করপোরেট ও পারপিচুয়াল বন্ড আসছে। সবমিলিয়ে শেয়ারবাজারের ভবিষ্যতে আরো ভালো হবে বলে মনে করছি। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিএসইসি ফ্লোরপ্রাইস (শেয়ার মূল্যে নিম্নসীমা) তুলে দিয়েছে। এটি ইতিবাচক। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার যেভাবে আগাচ্ছে, তাতে বাজারের ভবিষ্যত্ ভালো। শেয়ারবাজার ভালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেকহোল্ডারদের দায়িত্ব বাড়বে। এক্ষেত্রে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ম্যানেজমেন্টের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এছাড়া বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর শেয়ারবাজার যেভাবে পরিচালিত হয় এবং সেখানে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে, সেগুলো আমাদেরকেও চালু করতে হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখা উচিত। তিনি বলেন, এবারের বাজেট ‘মেড ইন বাংলাদেশ বাজেট’। এটি পুঁজিবাজারের জন্যেও ইতিবাচক। কমিশন ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের অবদান বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে কমিশন।

ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে একই রকম শেয়ারবাজার দেখে আসছি। সেখানে বিবর্তন দরকার। এজন্য নতুন প্রোডাক্ট আনা ও কৌশল নিতে হবে।’

ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসূর রহমান বলেন, প্রতি বছরের বাজেট পুঁজিবাজারের জন্য একটি সুবিধার কথা বলা থাকে। সেটি হলো অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ। কিন্তু এ বছর বাজেট পাশের আগে বলা যাবে না এ সুযোগ থাকবে কি-না। তাই আগামী বছরেও চলতি বছরের ন্যায় এ সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানাই।

সিএমজেএফ সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল বলেন, সারা পৃথিবীতে অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে পুঁজিবাজার। তাই আমাদের অর্থনীতিকে উন্নত করতে হলে শক্তিশালী পুঁজিবাজারের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান বাড়াতে হবে। শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, ব্রোকার হাউজের লেনদেনে বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর নেওয়া যৌক্তিক নয়। উেস করের হার দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ০১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানান তিনি।