২৫ বছরেও শেষ হয়নি সাংবাদিক আলাউদ্দিন হত্যা মামলার বিচার

সাতক্ষীরার দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দীন হত্যা মামলার বিচার ২৫ বছরেও শেষ হয়নি। ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন রাত ১০টা ২৩ মিনিটে নিজ পত্রিকা অফিসে কর্মরত অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তিনি। চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ না হওয়ায় হতাশ স্বজন ও সংবাদকর্মীরা।

আলাউদ্দিন একাধারে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভোমরা স্থলবন্দর, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স, সাতক্ষীরা ট্রাক টার্মিনাল ও বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তালা-কলারোয়া নির্বাচনি এলাকা থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পূর্ব পাকিস্তানের তিনি সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় তার ভাই নাসির উদ্দিন হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত কাটা রাইফেলসহ যুবলীগ কর্মী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। সাইফুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের নাম প্রকাশ করেন। ১৯৯৭ সালের ১০ মে সিআইডির খুলনা জোনের এএসপি খন্দকার      মো. ইকবাল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুরের আব্দুস সবুর, সুলতানপুরের  খলিলুল্লাহ ঝড়ু, তার ভাই মোমিন উল্লাহ মোহন ও সাইফুল্লাহ কিসলু, কিসলুর সহযোগী এসকেন্দার মির্জা, সফিউর রহমান, সুলতানপুরের কাজী সাইফুল ইসলাম, তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, তার শ্যালক আবুল কালাম ও কিসলুর ম্যানেজার আতিয়ারকে আসামি করে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় কিসলুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কিসলুর ম্যানেজার আতিয়ারকে আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত মামলাটির অভিযোগ গঠনের পর ঝড়ু, সবুরসহ কয়েকজন আসামি উচ্চ আদালতে আবেদন করলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। একপর্যায়ে অ্যাপিলেট ডিভিশন বিষয়টির নিষ্পত্তি করে মামলাটি দ্রুত বিচারের নির্দেশ দেয়। পরে জেলা দায়রা জজ আদালতে ফের বিচার কার্যক্রম শুরুর সময় কয়েক জন আসামি সাতক্ষীরা জেলার পরিবর্তে মামলাটি অন্য কোনো জেলায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করলে বিচার কার্যক্রম আবারও স্থগিত হয়ে যায়। ২০১২ সালে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে সাত-আট জন মারা গেছেন। হুমকি দেওয়া হয়েছে কয়েক জন সাক্ষীকে। বর্তমানে বাদীপক্ষের বিচারক পরিবর্তনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

আলাউদ্দীনের মেয়ে দৈনিক পত্রদূতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক লায়লা পারভীন সেজুতি বলেন, ‘বছরের পর বছর ঘুরছি। এখনো হত্যাকারীরা আস্ফাালন করে বেড়ায়। আর আমরা থাকি নিরাপত্তাহীনতায়। আসলে কি বিচার পাব?’