এবারের ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রতিবন্ধী মানুষকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। তারা বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক ওয়েবিনার, সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা দেওয়া সত্ত্বেও বিষয়টিকে আমলে নেওয়া হয়নি। দৈনিক ২৫ টাকা হারে প্রতিবন্ধী মানুষকে ভাতা দেওয়া হয়। কোভিডকালীন এটা কোনো যৌক্তিক সহযোগিতা হতে পারে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ১৩টি সংগঠনের আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এসব কথা বলেন।
বিডিডিটি থেকে লাভলী বলেন, দৈনিক ২৫ টাকা হারে প্রতিবন্ধী মানুষকে কীভাবে ভাতা দেওয়া হয়? এই করোনার সময়ে এটা কোনো যৌক্তিক সহযোগিতা হতে পারে না। এইচডিডিএফের চেয়ারম্যান রাজীব শেখ বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বকর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হোক। এনজিডিওর সভাপতি সুশান্ত, ডিপিওদের কার্যক্রম বেগবান করতে বাজেটে প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানভেদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান। এনসিডিডব্লিউর সভাপতি নাসিমা আক্তার বলেন, গত দুই বছর যাবত্ প্রতিবন্ধী মানুষের ভাতা বাড়ানো হচ্ছে না।
ডিসিএফের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন জাহান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ চাই। প্রতিবন্ধী মানুষের দায়িত্ব শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হতে পারে না। আর সরকার চাইলেই মাত্র আরো ৬০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ করলে প্রতিবন্ধী মানুষের ভাতা ৭৫০ থেকে ১ হাজার টাকা করা সম্ভব। ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের শানজিদা আক্তার বলেন, গত দুই বছর যাবত্ প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর বদলে ভাতাপ্রাপ্তির আওতায়ই বাড়ানো হচ্ছে, যা প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনধারণে কোনো প্রভাব ফেলছে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শারমিন বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা প্রতিবন্ধী ভাতা পেলে তাদের শিক্ষা উপবৃত্তি দেওয়া হবে না। কিন্তু এটা কেন হবে? সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী মানুষের কোটার সঠিক বাস্তবায়ন করার কথা তুলে ধরে সম্মেলন ফাউন্ডেশন।
সকালের বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় দেড় শ প্রতিবন্ধী মানুষ মানববন্ধনে সমবেত হন। তারা অর্থমন্ত্রীর সাক্ষাত্ না পেয়ে সমাজকল্যাণসচিবের কাছে তাদের সাত দফা সুপারিশের কপি তুলে দেন।