সব বয়সি শিশুদের সঙ্গে একই আচরণ নয়

বয়সভেদে শিশুদের আচরণের তারতম্য রয়েছে। তাই সব শিশুদের সাথে একই আচরণ ন্যায়সঙ্গত নয়। নবজাতক শিশুকে বিশেষ যত্নে রাখতেই হয়। দুই বছর বয়সে শিশুরা হাঁটতে শেখে, তাই এই সময় তাদের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়, যাতে পড়ে গিয়ে ব্যথা না পায়। ভয় পেলে কোলে তুলে নিতে হবে। কান্না করলে কোলে তুলে আদর করতে হবে। স্কুলপড়ুয়া শিশুরা সামাজিক পরিবেশের সাথে নিজেকে যুক্ত করতে শুরু করে, তাই তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। তাদের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলতে হবে, তারা যা বলে তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে, তাদের কোন কাজে বা প্রশ্নে বিরক্ত হওয়া যাবে না। মধ্য শৈশব অর্থাত্ ৬ থেকে ১২ বছর শিশুদের শারীরিক বিকাশ ধীর গতিতে হয়। তাই এই সময় শিশুদের প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্নের। এই বয়সে শিশুদের শারীরিক বিকাশ গঠনে খেলাধুলায় বাধা দেওয়া উচিত নয়। কোনো কাজে সাফল্য না পেলে তাদের নিরুত্সাহিত না করে বরং কীভাবে কাজে সফলতা অর্জন করতে হয় তা বুঝিয়ে দিতে হবে। মধ্য শৈশব বয়সটি শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই বয়সেই ছক বাঁধা জীবনে একটি পরিবর্তন শুরু হয়। এই বয়সে একজন শিশু পরিবারের বন্ধন ছাড়াও বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাই শিশুদের ভালো বন্ধু গঠনে পরামর্শ দিতে হবে। শিশুদের মাঝে হতাশা আসলে ভালো আচরণের মাধ্যমে তাদের মাঝে নিরাপত্তাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। তাই শিশুদের সুন্দর ও সুচারুরূপে গড়ে তুলতে হলে নেতিবাচক কথা না বলে বরং ইতিবাচক কথার মাধ্যমে তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে।

মো. তানসেন

দরগারবন্দ, শিবপুর, নরসিংদী