মনোহরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় ইন্টারনেট বিড়ম্বনায় মনোহরগঞ্জে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। প্রায় ১৫ মাস ধরে চলমান করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এতে মফস্সলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি ঝরেও পড়ছে। এদিকে অনলাইনে পাঠদান বিষয়ে মফস্সলের অধিকাংশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকই অনভিজ্ঞ। অনেকেই জানেন না স্মার্ট ফোনের যথাযথ ব্যবহার, কোনো কোনো শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নেই টেলিভিশনও।

লকডাউনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালু রাখতে ইন্টারনেটে শ্রেণিভিত্তিক পাঠদানের পাশাপাশি টেলিভিশনেও পাঠদান কার্যক্রম চালু করে। শহরের শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা পেলেও সুফল থেকে বঞ্চিত হয় মফস্সলের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক ও অভিভাবকরা ইন্টারনেটের ধীরগতিকেই এর জন্য দায়ী করছেন। সম্প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে শিশু শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে শিক্ষা অধিদপ্তর চালু করে গুগল মিট। এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হলেও বিশেষ করে মফস্সলে ইন্টারনেট বিড়ম্বনায় অনেকটা দায়সারা গোছের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এর প্রসার। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনলাইনে পাঠদান বিষয়ে মফস্সলের অধিকাংশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকই অনভিজ্ঞ। তাদের অনেকেই জানেন না স্মার্ট ফোনের যথাযথ ব্যবহার, তার ওপর আবার ইন্টারনেটসহ অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার।

উপজেলার কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবু নাছের জানান, বিদ্যালয়ের ভেতরে নেটওয়ার্ক থাকেই না। নেটওয়ার্ক পেতে যেতে হয় বিদ্যালয়ের বাইরে খোলা আকাশের নিচে। তাছাড়া অধিকাংশ অভিভাবকের স্মার্ট ফোন ও ওয়াইফাই সংযোগ নেই। এমনকি ঘরে টেলিভিশনও নেই। তিনি জানান, স্মার্ট ফোন আছে এমন অধিকাংশ অভিভাবক স্কুল চলাকালীন সময়ে থাকেন বাইরে, সিস্টেম বোঝেন না বেশির ভাগ অভিভাবক। সব মিলিয়ে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য। ফলে সম্ভব হয় না কাঙ্ক্ষিত পাঠদান।

উপজেলার হাটিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সোনিয়া আক্তারের বাবা জাফর আলী জানান, গুগল মিট ও ইন্টারনেট কি বুঝি না। আমাদের মোবাইলে এগুলো আসে না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনির হোসেন জানান, নেট অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গুগল মিট/জুম অ্যাপসের সাহায্যে পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্ন হয়। শুধু ইন্টারনেট নয়, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বাড়িতে টেলিভিশন না থাকায় সংসদ টিভিতে ঘরে বসে শিক্ষা গ্রহণ থেকেও প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা পালনে শিক্ষকদের প্রাণান্ত চেষ্টা থাকলেও অধিকাংশ অভিভাবকের স্মার্ট ফোন না থাকায় ইন্টারনেটে পাঠদান সম্ভব হয় না। তবে বছর শেষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পাঠ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক ওয়ার্কসিট বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ এখানকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী এমন বিড়ম্বনার শিকার। শুধু তাই নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে করোনাকালীন শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার জন্য অভিভাবকের অসচেতনতা, শিক্ষার্থীদের অমনোযোগ, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা না থাকাও অনেকাংশে দায়ী। তিনি সরকারি নির্দেশনা পালনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব শিক্ষককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।