কাপ্তাইয়ে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

ভারী বৃষ্টি হলেই কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ আশঙ্কা থেকে উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান উপজেলার ওয়াগগা ইউনিয়ন, কাপ্তাই ঢাকাইয়া কলোনি, চিত্মরম, রাইখালী এবং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে আসার জন্য বার বার আহ্বান জানাচ্ছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনিতেই প্রায় ১ হাজার পরিবার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন। যে কোনো মুহূর্তে ঢাকাইয়া কলোনিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর একবার যদি পাহাড় ধস হয় তাহলে একসঙ্গে শত শত ঘরবাড়ি ভেঙে পড়বে। এছাড়াও কাপ্তাই সড়কের নিচে বিশেষ করে কাপ্তাই লগগেইট, চিত্মরম, ব্যাঙছড়ি, শিলছড়ি বরইছড়ি এবং রাইখালীতে বিপুলসংখ্যক পরিবার চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। আর যে সব পরিবার চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন তাদের জন্য কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়কে আপাতত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ বলেন, পুরো উপজেলার মধ্যে বেশিসংখ্যক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে কাপ্তাই ইউনিয়নে বসবাস করছেন। পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলে ক্ষতির আশঙ্কাও এখানেই বেশি থাকে। তাই চরম বিপর্যয় ঘটার আগেই মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কাপ্তাই থানার ওসি মো. নাছির উদ্দিন বলেন, পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকেও মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে আসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্বেচ্ছায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে না এলে চরম ঝুঁকিতে থাকা শতাধিক পরিবারকে প্রয়োজনে জোর করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হবে বলেও জানান তিনি।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির জাহান জানান, উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে আসার জন্য বার বার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তারা স্বেচ্ছায় সরে না এলে চরম ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে প্রয়োজনে জোর করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হবে।

১৯১৭ সালের জুন মাসে পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে কাপ্তাইয়ে একদিনে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়। ঐদিন শত শত মানুষ হয়েছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত। সেরকম পরিস্থিতি আবার যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য উপজেলা প্রশাসন আগাম পদক্ষেপ নিচ্ছে।