জীবন বিমা কোম্পানির খরচ ১৫ শতাংশ কমার সম্ভাবনা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানির মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করায় কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে বলে আশা করেছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন। দেশের বিমা খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গতকাল রবিবার বিমা খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ইনসিওরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমনের সঞ্চালনায় এবং সংগঠনের সভাপতি গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, একটি লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি যখন সঠিক সময়ে বিমা দাবি পরিশোধ না করে তখন একধরনের বদনাম ছড়ায়। এ কারণে আমরা লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভিত শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিয়েছি। এরই মধ্যে সুপারভাইজরি লেভেল এবং কমিশন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এর ফলে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর খরচ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে, যা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করবে।

বিমা মালিকদের ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের দুটি সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। একটি শেয়ারবাজারে লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে। অন্যটি নন-লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে। নন-লিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে আমরা যেটা করছি যে, তারা যদি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায় সেক্ষেত্রে তাদের যদি ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ না হয়ে থাকে তাহলে তাদের অনুমোদন দিচ্ছি না।

আর যারা তালিকাভুক্ত বা পুঁজিবাজারে আছে, তাদের ক্ষেত্রে দুটি জটিলতা আছে। একটি আইনগত জটিলতা, অন্যটি অপারেশনগত জটিলতা। যেহেতু তারা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, সেক্ষেত্রে তাদের ৬০ শতাংশ পূরণ করার জন্য পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কিনতে হবে। এক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা আছে। যেহেতু এখানে আইনগতভভাবে বিষয়টি বলা আছে, তাই আমরা আইনগত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং সেভাবে এটা বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি।

সানলাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোম্পানিটির নানা সমস্যা আছে। আমরা সে বিষয়টি দেখছি। কোম্পানিটির যে সমস্যা ছিল তার কিছুটা ইতিমধ্যে তারা সমাধান করেছে। বিমা দাবি পরিশোধের জন্য সানলাইফ ইনসিওরেন্সকে আমরা এ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত তারা ২৫ কোটি টাকা বিমা দাবি পরিশোধ করেছে। তাদের কিছু অ্যাসেট ছিল তা লিকুইড করে এই দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলো পূরণ করার জন্য তারা এক মাস সময় চেয়েছে। আমরা আশা করি সে সমস্যাগুলোরও সমাধান হয়ে যাবে।

বিমা খাতে একচ্যুয়ারি সংকট একটি বড় সমস্যা। চেয়েও লোকজন পাওয়া যাচ্ছে না। একচ্যুয়ারি নিয়ে কেউ পড়তে চায় না। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। এ জন্য দেশ এবং বিমা খাতের প্রয়োজনে এ বিষয়ে স্কলারশিপ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিন জন আবেদন করেছেন। আমরা পাঁচ জনকে পাঠাব। এই পাঁচ জনের জন্য ৫ কোটি টাকা রেডি করে রাখা হয়েছে। কঠিন বিষয় বলে অনেকে এখানে আসতে চায় না। ফলে এই খাতের উন্নয়নে একচ্যুয়ারি একটি বড় সমস্যা। এর সমাধানেও আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, নন-লাইফের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। সেক্ষেত্রে নিরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সর্বোপরি বিমা খাতের উন্নয়নে যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তা আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে তার সুফল পাওয়া যাবে। যা বিমা খাতকে একটি ভালো অবস্থায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেছেন।