১৬৪ ধারায় যা বললেন ত্ব-হা

আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান গতকাল রবিবার রংপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, তিনি গাইবান্ধায় ছিলেন। তিনি নিজেই পারিবারিক অশান্তির কারণে নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার প্রথম স্ত্রীর (আবিদা নূর) বাবার বাড়িতে এসেছিলেন। তার সঙ্গীরাও তার সঙ্গে ছিলেন।

যেহেতু দুই স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা ছিল, তাই ত্ব-হাকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানান ত্ব-হার আইনজীবী সোলায়মান আহমেদ সিদ্দিকী বাবু। আইনজীবী সোলায়মান জানান, ‘ত্ব-হা শুক্রবার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন আমলি আদালতের (কোতোয়ালি) বিচারক কে এম হাফিজুর রহমানের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এতে তিনি বলেন, গত ১১ জুন বগুড়ার শিবগঞ্জ ও ঢাকার সাভারে দুটি প্রোগ্রাম ছিল। এ জন্য বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে রংপুর থেকে রওয়ানা দেন বগুড়ার উদ্দেশে। কিছু দূর যাওয়ার পর তিনি আঁচ করেন, বাইকে তাকে কেউ ফলো করছে।        এ কারণে বগুড়ার সাতমাথা হয়ে আরেক রোড ধরে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন। কোনো এক কারণে বগুড়ার শিবগঞ্জের প্রোগ্রাম বাতিল হয়। পরে তিনি ঢাকার সাভারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। টাঙ্গাইল পার হয়ে হেমায়েতপুরে এসে ধারণা করেন, বাইকে করে কেউ একজন তাকে আবার ফলো করছে। এরপর তিনি সেখান থেকে দ্রুত ঢাকায় প্রবেশ করে উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে একটি পাম্পে তেল নেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারাকে জানান যে, তিনি বাসায় আসছেন। তার অবস্থানের গুগল ম্যাপের একটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন। স্ত্রীকে বলেন, আমার ১৮ মিনিট লাগবে বাসায় পৌঁছতে। কিন্তু পরে তিনি ইউটার্ন করে আবার রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তবে রংপুরে না এসে তার স্কুলবন্ধু সিয়ামের বাসায় যান গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে। জবানবন্দি অনুসারে রংপুর ফেরার পথে টাঙ্গাইলে এসে তিনি আশঙ্কা করেন যে, কারো হাতে আটক হতে পারেন। এ জন্য সফরসঙ্গীদের মোবাইল ফোন নিজেই বন্ধ করে দেন। তাদের বলেন, ফোন খুললে তিনি কারো হাতে ধরা পড়তে পারেন। ত্ব-হা জবানবন্দিতে বলেন, তার নিজেকে আড়াল করে রাখার পেছনে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ ছিল। ডিপ্রেশনের কারণে সবার থেকে একটু আলাদা থাকার জন্য সিয়ামের বাসায় আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে গিয়ে ত্ব-হা অসুস্থ বোধ করেন। ছিল করোনার উপসর্গও। তাই তিনি একবারের জন্য ফোন খোলেননি। আদালতকে জানিছেন, যারা তার সঙ্গে ছিলেন, তারা ত্ব-হার নিকটজন এবং বিশ্বস্ত। যে চালক গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তিনিও তার ঘনিষ্ঠ। এ কারণে তারাও তার কথা শুনেছেন। গত শুক্রবার সুস্থ বোধ করলে দুপুর ১২টার দিকে রংপুরে প্রথমে শ্বশুরের বাসায় এসে অবস্থান করেন এবং অন্যরা সবাই নিজ নিজ বাসায় চলে যান। এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের বন্ধু সিয়াম ইবনে শরীফ চাকরিচ্যুত হয়েছেন। ত্ব-হা তার দুই সঙ্গী ও গাড়িচালককে নিয়ে বন্ধু সিয়ামের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে আট দিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করছে পুলিশ। এ ঘটনার জের ধরেই শনিবার সিয়ামকে চাকরিচ্যুত করেছে মোবাইল ফোন কোম্পানি অপো। সিয়াম রংপুরে অপোর মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গতকাল রবিবার নিজের চাকরি হারানোর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন সিয়াম ইবনে শরীফ।

সিয়াম বলেন, আমার বন্ধু আবু ত্ব-হাসহ চার জন গাইবান্ধায় আমাদের বাড়িতে যে আশ্রয় নিয়েছিল, সেকথা পরিবারের কেউ আমাকে জানায়নি। ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে আমি নিজেও উদ্বিগ্ন ছিলাম। অন্য বন্ধু-বান্ধবদের মতো ত্ব-হার সন্ধান দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলাম। পুলিশ ত্ব-হাকে উদ্ধারের পর জানলাম সে আমার বাড়িতেই আত্মগোপন করেছিল।