বাদল দিনে তোমার সনে

 ‘আমার সারাটা দিন/ মেঘলা আকাশ বৃষ্টি/ তোমাকে দিলাম/ শুধু শ্রাবণ সন্ধ্যা টুকু/ তোমার কাছে চেয়ে নিলাম’—এই গানের মতো বৃষ্টির দিনে নিজের মনটাও রোমান্টিক হয়ে উঠে। এই রোমান্টিকতার প্রভাব পড়ে আমাদের ফ্যাশন ও জীবনযাপনে। তাই তো বাদল দিনে প্রিয়জনকে নিয়ে বৃষ্টির ছোঁয়া নিতে বাইরে বের হলেই নীল রঙের পোশাক প্রাধান্য পায়। নীল রঙের পোশাক নিয়ে লিখেছেন লোপা চৌধুরী

বৃষ্টির দিনে নারীর কাছে নীল রঙের শাড়ি প্রিয়। আর যদি শাড়িতে থাকে বর্ষার বিভিন্ন মোটিফ, কদম, বেলি, মেঘ, বৃষ্টি, জল— তবে তো আরও আনন্দের। বর্ষার এই মৌসুমে যে কোনো নীল বেছে নিতে পারেন পছন্দমাফিক। নামকরা ফ্যাশন হাউজ, বুটিক শপ এমনকি অনলাইন পেজের ডিজাইনাররাও এই সময় তাদের পোশাকে নীল রঙকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। বৃষ্টির দিনে প্রিয়জনকে নিয়ে বাইরে বেড়াতে যাওয়ার সময় নারী-পুরুষ উভয়ে নীল রঙের পোশাক পরতে পারেন। ফ্যাশন ডিজাইনারদের ভাষ্য মতে— আকাশ আর জলধারা নিয়েই আমাদের বর্ষা। যে সময়কাল একই সঙ্গে বেদনার ও ভালোবাসার অনুভূতি জাগায়। বর্ষার সঙ্গে নীল রঙের রয়েছে এক গভীর যোগ, যা পোশাকেও ফুটে ওঠে। এ সময় শাড়ির মেটেরিয়াল হিসেবে প্রধানত ব্যবহূত হয় সুতি, জর্জেট, সিল্ক, হাফ সিল্ক ইত্যাদি। ফ্লোরাল প্রিন্টের জর্জেট এবং অরগ্যান্ডি শাড়ি এখন খুব চলছে। এগুলোতে প্রিন্ট করাই থাকে। তাই আলাদা করে কিছু করতে হয় না। আর ছেলেদের নীল রঙের পাঞ্জাবির মধ্যেও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য।

আমাদের দেশে বর্ষাকাল ভিন্নমাত্রা নিয়ে আসে। এই সময়ে শত সমস্যা হলেও বাঙালি বর্ষা ভালোবাসে। মন ও মননে প্রশান্তি এনে দেয় বর্ষা ঋতু। তাই তো বর্ষা নিয়ে আমাদের সৃজন শিল্প এত উচ্ছ্বসিত, যার প্রকাশ দেখতে পাই আমাদের ছবি, গল্প, কবিতাসহ সাহিত্যের নানা শাখায়। জীবনধারায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে ফ্যাশনেও এর প্রভাব রয়েছে। এই সময়ের পোশাকেও প্রকাশিত হয় বর্ষা।

ইদানীং যদিও প্রায়ই দেখা যাচ্ছে কালো মেঘের ঘনঘটা, তারপরই আকাশ কালো করে বৃষ্টির আগমন— তবু প্রায়ই থাকছে ভ্যাপসা গরম। এই গরমে বেছে নিতে পারেন মোম বাটিক বা টাই-ডাই করা সুতির শাড়ি। টাই-ডাই হচ্ছে কাপড় বেঁধে রঙে চুবিয়ে করা এক ধরনের বাটিক। সব রঙেই করা যায় এ বাটিক। তবে বর্ষাকালের কারণে এখন প্রাধান্য পাচ্ছে নীল, সাদা, আকাশি, ছাই, ধূসর ইত্যাদি।

বর্ষার হালনাগাদ ফ্যাশন হিসেবে সব ফ্যাশন হাউজই এখন আনছে নীল রঙের শাড়ি। যদিও নীলপ্রেমী নারীদের জন্য সব ঋতুতেই কিছু নীল শাড়ি অবধারিতভাবে কালেকশনে থাকে। আড়ং, এমদাদ, অঞ্জন’স, বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, রঙ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন হাউজের শো-রুমে পাবেন ব্লকে ছাপা শাড়ি। দাম ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে। টাই-ডাই এবং হ্যান্ড পেইন্টেড শাড়ির দাম অবশ্য তুলনামূলক কিছুটা বেশি। এর দাম শুরুই হবে ২,০০০ টাকা থেকে। পাঞ্জাবির দাম পড়বে ১,২০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। এসব শাড়ি ও পাঞ্জাবি দোকান এবং ফ্যাশন হাউজ ছাড়াও অনলাইনে পাওয়া যায়।

টি প স

বর্ষায় শাড়ির যত্ন

l বৃষ্টির দিনে শাড়ির প্রতি হতে হবে একটু বেশিই যত্নবান।

l শাড়িতে কাদা লেগে বা ভিজে গেলেও বাড়িতে এসে ফেলে রাখবেন না। ভিজে স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেলে কালশিটে দাগ এবং তিলা পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

l কাদা দীর্ঘদিন লেগে থাকলে পরে কালচে দাগ সহজে উঠতে চায় না। কখনও তা ওঠেই না। তাই কাদার দাগ লাগা শাড়ি সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন। সাবানে ক্ষারের পরিমাণ বেশি। তাই শ্যাম্পু বা বডিওয়াশ ব্যবহার করা এ ক্ষেত্রে সুবিধাজনক।

l জামদানি শাড়ি যেহেতু বর্ষাকালে বিশেষ পরা হয়ে ওঠে না, তাই এসব শাড়ির পাট ভেঙে ভাঁজ পরিবর্তন করে রাখুন। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার প্রভাব শাড়িতেও পড়তে পারে।

l শাড়িতে ন্যাপথলিন দিয়ে রাখুন।

l একটা কৌটায় তেজপাতা গুঁড়া করে আপনার শাড়ির আলমারির একপাশে রেখে দিতে পারেন। এতে তেলাপোকাসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

l শাড়ি আলমারির তাক থেকে নামিয়ে প্রায়ই বাতাসে রাখা ভালো। এতে স্যাঁতসেঁতে ভাবটা দূর হবে।