l নাজমা সুলতানা মেন্ডিজ
প্রতিদিন জীবনের অনেক জটিলতার মধ্যে আমাদের যেতে হয়। তাই দিনশেষে একটা অনুপ্রেরণামূলক বাসস্থান আমাদের ভীষণ প্রয়োজন। জীবনের অনেক অর্থপূর্ণ কাজের মধ্যে একটি হচ্ছে বসবাসের জন্য একটি সুন্দর জায়গা তৈরি করা। তাই আমি মনে করি আধুনিক এপার্টমেন্ট ঘরে একটু ভালো থাকার জন্য ইন্টেরিয়র ডিজাইনের গুরুত্ব অনেক।
একটি পরিষ্কার, সুন্দর এবং কার্যকরী বসবাসের বা কাজের মনোরম পরিবেশ তৈরি করতে ডিজাইন করার ক্ষেত্রে সমন্বয় এবং ঠিক ভারসাম্য খেয়াল রাখতে হয়। অন্দর সজ্জার কিছু নিয়ম আছে, যা আমি প্রথমেই বিবেচনা করি। যেমন—
ভারসাম্য
ইন্টেরিয়র ডিজাইনে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। অন্দর সজ্জায় ভারসাম্য কী এবং আমরা কীভাবে এটি অর্জন করব? বাড়ির সমস্ত কিছুই একটি দুর্দান্ত স্কেলে পরিমাপ করাটা বেশ একটা অঙ্কের মতো। আপনি যে ঘর বা স্থানটি দেখছেন তার সামগ্রিক নকশাটি একবার দেখুন। ভিতরে টেক্সচার এবং সজ্জাসহ পুরো একটি ছবি হিসাবে এটি দেখুন। ঘরের ডান এবং বাম দিকটি কি একই রকম দেখতে? আপনার উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তবে এই ঘরটি ভারসাম্যপূর্ণ।
প্রাকৃতিক উপাদান
লম্বা, পাতলা গাছ থেকে শুরু করে কাঠের কফির টেবিল পর্যন্ত প্রচুর প্রাকৃতিক উপাদান আমরা আমাদের ঘরে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। প্রাকৃতিক এবং সবুজ রং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়। এছাড়া চটের কার্পেট, দেয়াল চিত্র, বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি, মাটির পাত্র জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
সাদৃশ্য ও সমন্বয়
সাদৃশ্য ও সমন্বয় বলতে অন্দর সজ্জার ডিজাইন, লাইন, ফর্ম, রং এবং টেক্সচারের সমস্ত উপাদানের ভিতর একটি আনন্দদায়ক নান্দনিক সম্পর্ককে বোঝায়। মনে রাখতে হবে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে ঘরভর্তি অপ্রয়োজনীয় আসবাব এবং জিনিষপত্র না রেখে অল্প কিন্তু প্রয়োজনীয় আসবাবই যথেষ্ট। নিয়ন্ত্রিত অন্দর সজ্জা একটি সাধারণ উজ্জ্বল এবং স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করে যা খোলা এবং প্রশান্তি বোধ এনে দেয়।
কেন্দ্রবিন্দু
একটা রুমের মধ্যে ডিজাইনের কেন্দ্রবিন্দু সাধারণত সেই জায়গাটিকে বোঝায় যেখানে আপনার চোখ সরাসরি আটকে যায়। ঘরের কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করতে বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার হতে পারে। অন্দর সজ্জার কয়েকটি বিশেষ ফোকাল পয়েন্ট যেমন দেয়ালচিত্র, ফিচার ওয়াল, বড় গাছ, টিভি ইউনিট, ভিন্ন ধরনের নান্দনিক কোনো আসবাব ইত্যাদি। আবার কখনো একটি জানালার পর্দার ভিন্ন ব্যবস্থা এবং সুন্দর রুম পার্টিশন হতে পারে ফোকাল পয়েন্ট।
রং
রং অন্দর সজ্জার একটি মৌলিক এবং প্রভাববিশিষ্ট দিক। রঙের নির্বাচন ইন্টেরিয়র ডিজাইনের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণের একটি প্রধান কারণ। রং কোনো স্কিমের মুড নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে তাই আমি ভিজ্যুয়াল ডিজাইনের ধারণাটি এখানে বিবেচনা করি। কোনো ঘরের আকার বা অনুপাত পরিবর্তন করতেও রঙের ব্যবহার করা যেতে পারে। আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলে, রং কোনো ব্যক্তির মেজাজেও পরিবর্তন আনতে পারে। অন্দর সজ্জার উপাদান এবং আসবাবে ব্যবহারের জন্য ডিজাইনের শুরুতেই যে মুড বোর্ড তৈরি করা হয় সেখানে বিভিন্ন রঙের টিন্টস, শেড এবং টেক্সচার ব্যবহার করে রঙের সামঞ্জস্য আনা যেতে পারে। সাধারণত যখন আমরা অভ্যন্তর নকশা নিয়ে বিশ্লেষণ করি, তখন আমরা নান্দনিক দিকগুলি নিয়ে কথা বলি— কীভাবে একটি সফল ইন্টেরিয়র ডিজাইন স্পেস অর্জন করতে হয়, কোন সজ্জা শৈলীটি আপনাকে অনুকরণ করা উচিত, কোন নতুন ডিজাইন এবং ট্রেন্ডস যা আপনার লক্ষ্য করা উচিত।
শিল্পীদের যেমন এক পর্যায়ে রঙ বা ব্রাশ স্ট্রোক যোগ না করে ক্যানভাসে থামতে হয়, ডিজাইনারকেও অবশ্যই জানতে হবে কখন থামবেন। অপ্রয়োজনীয় আসবাব অযথা ভিজ্যুয়াল এবং দৈহিক বাধা তৈরি করে। ইন্টিরিয়র ডিজাইনের এসব কৌশল ব্যবহার করে আপনি সহজেই ইতিবাচক অনুভূতিপূর্ণ ইন্টিওর ডিজাইনড স্পেস পেতে পারেন যা অপনাকে প্রতিদিন অনুপ্রেরণা দিবে।
লেখক ইন্টেরিয়র ডিজাইনার