কিম জং উনের বক্তব্য ‘আকর্ষণীয় সংকেত’ :জ্যাক সুলিভান
জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার
সঙ্গে দেশটির প্রকাশ্য কোনো যোগাযোগ হয়নি
উত্তর কোরিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি কোনো শর্ত ছাড়াই যে কোনো জায়গায় যে কোনো সময়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দেশটির প্রকাশ্য কোনো যোগাযোগ হয়নি।
গত সপ্তাহে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন বলেছেন, তার দেশ ‘সংলাপ ও সংঘাত’ উভয়ের জন্য অবশ্যই প্রস্তুত রয়েছে। তার এ মন্তব্যের পর মার্কিন দূত সুং কিম এ প্রস্তাব রেখেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঁচ দিনের সফরকালে মার্কিন দূত বলেছেন, ‘আমরা অব্যাহতভাবে আশা করছি উত্তর কোরিয়া এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে সাড়া দেবে।’
এদিকে কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বক্তব্যকে ‘আকর্ষণীয় সংকেত’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তবে ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে সরাসরি যোগাযোগের জন্য অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগে শুক্রবার কিম জং উন জানান, চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনো আপত্তি নেই তার। তবে শুধু আলোচনা নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায়ও তিনি প্রস্তুত বলে জানান। ‘আলোচনা এবং মোকাবিলার’ জন্য তার সরকারকে নির্দেশও দেন তিনি। খবর এএফপি ও এনডিটিভির।
জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে এটাই কিম জং উনের প্রথম মন্তব্য। কিমের এমন মন্তব্য নতুন করে দুই দেশের সঙ্গে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হবে বলে ধারণা করেন অনেকে। তার এই বক্তব্যের জবাবে কথা বলেন জ্যাক সুলিভান। তিনি বলেন, ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কিমের বক্তব্য আকর্ষণীয় সংকেত হিসেবে মনে করছি আমরা। এখন দেখার বিষয় তারা এই আলোচনাকে সম্ভাব্য কার্যকর পথে এগিয়ে নিতে সরাসরি যোগাযোগ করে কি-না।’ তিনি বলেন, ‘কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন যা বলেছেন তার মূল কথা হলো, পরমাণু চুক্তির বিষয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।’
এদিকে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে কিম বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত তার দেশ। তিনি জানান, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই ঐ অঞ্চলে পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি।