আইনের আওতায় আনা
হচ্ছে মদতদাতাদের
ইত্তেফাক রিপোর্ট
তিন স্থানে অভিযান চালিয়ে পথচারীদের আতঙ্ক তিন কিশোর গ্যাংয়ের ২৫ সদস্যকে আটক এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। রাজধানীর হাজারীবাগ ও দারুস সালাম থানা এলাকায় রবিবার অভিযান চালিয়ে দুটি কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। আটককৃতরা ‘ডন সাগর’ ও ‘মুন্না গ্রুপ’-এর সদস্য। তাদের মধ্যে ১৬ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তাদের কাছ থেকে ১১টি ছুরি, একটি চাপাতি, তিনটি হোল্ডিং চাকু ও একটি ক্ষুর জব্দ করা হয়েছে। গতকাল আগারগাঁওয়ে র্যাব-২-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন। আটককৃতরা হলো—সাগর, সরফরাজ আহমেদ রিমন, রায়হান, পলাশ হোসেন, মুন্না, রাসেল, উজ্জ্বল হোসেন, শাকিল হাওলাদার, মুরাদ হোসেন, মামুন খান, রিফাদ হোসেন, রায়হান, হাসান শেখ, হাসনাইন, নাসির উদ্দিন আলবানী ও জয় চন্দ্র ঘোষ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক সেবন, নারীদের উত্ত্যক্ত ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করে। কিশোররা টিকটক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছে। তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে তারা একাকী পথচারীদের আকস্মিকভাবে ঘিরে ধরে। এরপর আশপাশে কেউ বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে মানিব্যাগ, টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসেট ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গ্রুপের সদস্য কিশোর ও যুবকেরা রাস্তায় পরিকল্পিতভাবে সংঘাত তৈরি করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে। নিজেদের গ্রুপের আধিপত্য বজায় রাখতে তারা অন্য গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। গত এক মাসে তালিকাভুক্ত ১১টি কিশোর গ্যাংয়ের মোট ৬২ জনকে আটক করা হয়েছে। শুধু কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যই নয়, তাদের ও মদতদাতা হিসেবে কাজ করে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের ৯ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। তারা হোসেন গ্রুপের সদস্য। রবিবার গভীর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের আটির ওয়াপদা ল্যান্ডিং মোড়ের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে এসএস পাইপ ছয়টি ও তিনটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলো—মো. মিলন হোসেন, মো. সারোয়ার হোসেন ওরফে অপূর্ব, মো. আমিন উদ্দিন জনি, মো. বাবু, মো. ইকবাল হোসেন, মো. আরিফ হোসেন, মো. রবিন। অন্য দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। র্যাব-১১-এর এএসপি মো. সম্রাট তালুকদার এ তথ্য জানান।
তিনি আরো জানান, আটককৃতরা এলাকায় সন্ত্রাসী ও ছিনতাই করে আসছিল। তারা প্রত্যেকে হোসেন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। বেশ কিছুদিন যাবত্ তারা পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় দলবদ্ধ হয়ে সংঘাত সৃষ্টি ও পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন র্যাবের এই কর্মকর্তা।