সুফিয়া কামাল নারী জাগরণে সংগ্রামী শক্তির প্রতীক

স্মারক বক্তৃতা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মানবমুক্তি, গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামাল। যিনি মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি নারীর সব কর্মে, চিন্তা-আনন্দে ও সংকটে জড়িয়ে আছেন। তিনি মনে করতেন নারীরা এগিয়ে আসলেই সম্ভব সমাজের পুনর্জাগরণ। তাই কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি নারীকে সমৃদ্ধির পথে, মুক্তির পথে, কল্যাণের পথে আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার বিকালে কবি সুফিয়া কামালের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে অনলাইনে আয়োজিত স্মারক বক্তৃতা ও কবি সুফিয়া কামাল সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সভাপতির বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর জীবনে নানা সক্ষমতা অর্জন হয়েছে, কিন্তু পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো পরিবর্তন হয়নি। এজন্য সংগ্রামের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। নারী উন্নয়নের লক্ষ্যবস্তু, না উন্নয়নের বিষয়, সেটি দেখতে হবে। নারী যখন উন্নয়নের অংশীদার, তখনো নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। এগিয়ে যেতে দেওয়ার পরিবর্তে নানাভাবে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমন অবস্থা প্রতিরোধে নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাসী সব প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

‘সুফিয়া কামাল ও বাংলাদেশের নারীবাদী আন্দোলন’ শীর্ষক স্মারকবক্তৃতায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিত্ ঘোষ বলেন, আজ থেকে ৭০-৮০ বছর আগে তিনি যেভাবে নারীর মুক্তির কথা ভেবেছেন, মানুষকে সংগঠিত করেছেন তা ভাবলেও বিস্মিত হতে হয়। আজ নারীবাদের যে তাত্ত্বিক কাঠামো তা সুফিয়া কামালের সময়ে ছিল না, অথচ তিনি সমাজের বিকাশের চেয়ে নারীর বিকাশকে বড় করে দেখেছেন। তিনি নারী জাগরণে সংগ্রামী শক্তির প্রতীক। তিনি মনে করতেন, নারীরা এগিয়ে আসলেই সম্ভব সমাজের পুনর্জাগরণ। তাই কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি নারীকে সমৃদ্ধির পথে, মুক্তির পথে, কল্যাণের পথে আহ্বান জানিয়েছেন।