সারা দেশে ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টরে রোপা আমন চাষের লক্ষ্য

বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

চলতি মৌসুমে (২০২১-২০২২) সারা দেশে ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আর রোপা আমন উত্পাদনে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে (চালে) ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫২ হাজার ২২০ টন। গত বছর সারা দেশে রোপা আমন চাষ হয়েছিল ৫৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ হেক্টর জমিতে। উত্পাদন হয়েছিল ১ কোটি ৪১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪৩ টন (চাল)। ধানের দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা ধান চাষে ঝুঁকেছেন। ইতিমধ্যে অনেক এলাকায় আগাম রোপা আমন চাষ শুরু হয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ির ক্রপস উইং সূত্রে জানা যায়, এ বছর হাইব্রিড রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টরে। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ ১১ হাজার ৪০০ টন। উচ্চফলনশীল জাত চাষ করা হবে ৪৫ লাখ ৩২ হাজার হেক্টরে। আর উফশী জাতের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ২১ হাজার ৬২০ টন (চাল)। স্থানীয় জাতের রোপা আমন চাষ করা হবে ৮ লাখ হেক্টরে। উত্পাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টন (চাল)। হাইব্রিড হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৭২ টন (চাল), উফশী জাতের হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ টন এবং স্থানীয় জাতের হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৫২ টন।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুই বছর ধানের দাম ভালো পাওয়ায় চাষে লাভ হচ্ছে। চাষিরাও ধান চাষে ঝুঁকছেন। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামের চাষি মুস্তাফিজুর রহমান জানান, গত বছর ১০ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলেন। এবার আরো বেশি জমিতে রোপা আমন চাষের মনস্থ করেছেন। তবে এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম। অনেকে সেচের পানিতে বীজতলা তৈরি করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক জাহেদুল আমিন জানান, অনেক স্থানে চাষিরা রোপা আমনের বীজতলা তৈরি শুরু করে দিয়েছেন। চাষিরা ধান চাষ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এবার পশ্চিমের ছয় জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে।