আঞ্চলিক অসমতা ও মহামারিকালীন স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা

গ্রামীণ অঞ্চল ও দেশের দুর্গম এলাকাগুলো

বরাদ্দের ক্ষেত্রে যথেষ্টই উপেক্ষিত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইকে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হলেও সংক্রমণ ঠেকাতে বাজেটে অপর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং স্বাস্থ্যবিধি উপখাত যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। যা কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করবে।

রবিবার ঢাকায় অনলাইনে যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ওয়াটারএইড, ইউনিসেফ, পিপিআরসিসহ কয়েকটি সহযোগী সংগঠন। বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এসডিজি-৬ অর্জনের গতিকে আরো ত্বরান্বিত করার জন্য অসমতা দূর করে জাতীয় বাজেটে ওয়াশ ওয়াটার, স্যানিটাইজেশন, হাইজিন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোর বাজেটে ওয়াশ খাতে আর্থিক বরাদ্দের ধারা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কিছুটা কমেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত ১২ হাজার ২২৭ কোটি টাকা কমিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১১ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। সারা বছর করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় ২০২১-২২ অর্থবছরেও স্বাস্থ্যবিধি (হাইজিন) উপখাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রস্তাবিত ওয়াশ বাজেট বরাদ্দের একটা বড় অংশই শহরাঞ্চলের দিকে ঝুঁকছে যা মূলত প্রধান শহরগুলোতে ওয়াশ খাতে বরাদ্দের কারণে হয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চল ও দেশের দুর্গম এলাকাগুলো বরাদ্দের ক্ষেত্রে যথেষ্টই উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমানে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি এবং ওয়াশসেবার সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদ এবং পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ওয়াশ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ভৌগলিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। তার পরেও গ্রামাঞ্চল, চর, পার্বত্য অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার তুলনায় শহর ও মহানগরগুলোতে পূর্ববর্তী বছরগুলোর বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়াশ সেক্টরে বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও সঠিক বরাদ্দ এখনো অবহেলিত।

ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর সরকারের ভ্যাট মওকুফ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য এখনই প্রয়োজন একটি পরিবীক্ষণ ব্যবস্থার। এতে এ ঘোষণার ফলাফল কিশোরী এবং নারী উভয়েই পাবে।