সুনামগঞ্জের রেলপথ প্রকল্প নিয়ে দুই মন্ত্রী মুখোমুখি

সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, সুনামগঞ্জে রেললাইন স্থাপন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে  ‘বাহাস’ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পর্যন্ত আলোচনা ঠেকেছে। এর রুট কোন পথে বাস্তবায়ন হলে সাশ্রয়ী হবে, দ্রুত বাস্তবায়ন হবে ইত্যাদি নিয়ে আলোচনার ঝড় চলছে। একপক্ষ গোবিন্দগঞ্জ টু সুনামগঞ্জ রেললাইন; অপর পক্ষ ছাতক-আমবাড়ী ভায়া সুনামগঞ্জ রেললাইন স্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরছেন।  তবে স্থানীয় বিশিষ্টজনরা বলেছেন, এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেন বাহাসের কারণে হারিয়ে না যায়।

গোবিন্দগঞ্জ টু সুনামগঞ্জ রেললাইন

গোবিন্দগঞ্জ টু সুনামগঞ্জ রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জহিরসহ অনেকেই। গোবিন্দগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ সড়কে পুরো জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের যাতায়াত।

ছাতক রেললাইনকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করার পক্ষে পাঁচ এমপি

সিলেট-ছাতক রেললাইনকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করে তা মোহনগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি অ্যালাইনমেন্টও তৈরি হয়েছে  জানিয়ে গত ৮ জুন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, সুনামগঞ্জ-১ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, সুনামগঞ্জ-২ আসনের  জয়া সেনগুপ্ত এমপি, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি ও সংরক্ষিত আসনের এমপি শামীমা শাহরিয়ার রেলমন্ত্রীকে ডিও লেটার দেন।

তাদের সঙ্গে একমত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান। তাদের এই অবস্থান সিলেটের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করেছেন সিলেটের সুধী মহল। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, কেউ কেউ এই বিষয়ে আমাকে জড়ানোয়, আমি স্তম্ভিত।

ফেসবুকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ট্যাটাস পড়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর পালটা পোস্ট

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন রেললাইনের  রুট নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে। বিষয়টি সামনে এসেছে দুই মন্ত্রীরই ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। এর মধ্যে রবিবার দেওয়া এক স্ট্যাটাস অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেললাইন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের ভূমিকায় বিস্মিত হয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, দুজনের মধ্যে দীর্ঘ ৫০ বছরের বন্ধুত্ব, একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সহকর্মী হয়েও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রবিবার বিকালে ‘পরিকল্পনামন্ত্রীর দপ্তর’ ফেসবুক পেজ থেকে এই স্ট্যাটাসটি দেওয়া হয়।  এমনকি রেললাইন নির্মাণ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেটি সুরাহা হওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।  তিনি বলেন, ‘আমি এখন এলাকায় আছি। রেললাইনের রুট নিয়ে নানা ধরনের কথা হচ্ছে। আমি চাই, বিষয়টি এখানেই শেষ হোক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমার সহকর্মী, তিনি চাইলে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারতেন।’

এ নিয়ে অবশ্য ফেসবুকে প্রথম স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত ১৪ জুন দেওয়া সেই স্ট্যাটাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘মান্নান আমার বন্ধু, মান্নানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ৫০ বছরের অধিক। আমি এবং মান্নান সুখে-দুঃখে সব সময়ই ছিলাম এবং আছি, ভবিষ্যতেও আমৃত্যু থাকব বলেই আশা করি। দুঃখজনক যে সিলেটের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে দেখলাম আমার এবং মান্নানের মধ্যে নাকি দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং এই দ্বন্দ্বের কারণে নাকি সিলেটের অনেক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে! কে বা কারা এই সংবাদটি প্রচার করছেন জানি না, তবে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। যে বা যারা এটি প্রচার করছেন, তারা হয়তো বা কোনো বিশেষ বা অসত্ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করছেন। ফেসবুকে এই স্ট্যাটাসটির প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না, তবে একটি বিশেষ কারণে দিচ্ছি আর তা হলো আমার এবং মান্নানের স্থানীয় অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন আর তাদের মধ্যে যাতে কোনো বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয়।’

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, ‘পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান সাহেব রেলপথ কোন দিকে যাবে, এই নিয়ে কোনো মতামত দেননি। একজন সংসদ সদস্য বিভেদ সৃষ্টি করে রাখার জন্য তার (পরিকল্পনা মন্ত্রী) নাম জড়িয়েছেন’।