২০ বছর আগের শিশু হত্যার বিচারের বাধা কাটল

২০ বছর আগের শিশু হত্যা মামলা। এর মধ্যে তদন্তের বৈধতা নিয়ে ১৯ বছরই আদালতের বারান্দায়। সর্বশেষ ছয় আসামির বিরুদ্ধে প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া চার্জশিট আমলে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে অধস্তন আদালতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন আসামি  পক্ষের আইনজীবী মিসবাহুল আনোয়ার।

২০০১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বি এম চর বেতুয়া গ্রামে শিশু রিপা মনি হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঐদিন নিহতের পিতা আবুল বশর চৌকিদার বাদী হয়ে আব্দুল মান্নানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালে মান্নানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। এই অভিযোগপত্র আদালতে গ্রহণের পূর্বে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনঃ তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন জানায়। ২০০২ সালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি পুনঃ তদন্তের আদেশ দেয়। পুনঃ তদন্ত শেষে ২০০৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত রিপার মা আয়াতুন্নাহারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এজাহারভুক্ত ছয় আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। ঐ বছরের ২৯ মার্চ আয়াতুন্নাহারের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে এজাহারভুক্ত আসামিদের মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেয় আদালত।

মামলার বাদী আবুল বশর এই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করলে তা নামঞ্জুর হয়। নিম্ন আদালতের এই আদেশ বাতিল চেয়ে ২০০৪ সালে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(ক) ধারায় হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে। ঐ রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১১ সালে উচ্চ আদালত রায় দেয়। ঐ রায়ে আয়াতুন্নাহারের বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নেওয়ার আদেশ বাতিল করে দেয়। একই সঙ্গে প্রথম চার্জশিটে উল্লেখিত ছয় আসামি ও আয়াতুন্নাহারের বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিট একত্রে রেখে বিচার কাজ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন বাদী। ২০১৪ সালে আপিল বিভাগ আয়াতুন্নাহারকে আসামি করে সিআইডির চার্জশিট অবৈধ ঘোষণা করে। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন মনে করলে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন মর্মে পর্যবেক্ষণ দেয়। এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আসামি আব্দুল মান্নান রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন। ২০১৬ সালে আপিল বিভাগ রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে কক্সবাজারের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) চকরিয়াকে নির্দেশ দেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বেই মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া চার্জশিট আমলে নিয়ে মান্নানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করেন মান্নান। ২০১৯ সালে ঐ রিভিশন আবেদন খারিজ করে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করা হয়। গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্ট ঐ আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে মান্নান। গতকাল আপিল বিভাগ মামলার প্রধান আসামির আবেদন খারিজ করে দেয়।