মেয়েদের ছোট পোশাক পাকিস্তানে ধর্ষণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী :ইমরান খান

ধর্ষণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফের শিরোনামে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেছেন, মেয়েরা ছোট জামাকাপড় পরে তাই পাকিস্তানে ধর্ষণ বেড়ে চলেছে। পাক প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মহিলাদের পোশাকের সঙ্গে দেশের ধর্ষণ বৃদ্ধি হওয়া সম্পর্কযুক্ত।  ‘এক্সিও অন এইচবিও’র একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাত্কারে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুরুষরা যদি রোবট না হয়, তাহলে মহিলাদের স্বল্পবসনে তাদের ওপরে প্রভাব পড়বেই। এটা খুবই সাধারণ বুদ্ধি।’ 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর ঘরে-বাইরে তাকে সমালোচনায় পড়তে হয়েছে। এর আগেও তিনি এরকমভাবেই মহিলাদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তখন পাকিস্তানের নাগরিকরাই ইমরান খানের সাবেক  এক বান্ধবীর সঙ্গে তার ছবি সোশ্যাল     মিডিয়ায় তুলে ধরে তাকে আক্রমণ করেছিল। ঐ ছবিতে একটি বিচের মধ্যে ইমরান খানের বান্ধবীকে  তার সঙ্গে বিকিনি পরে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল।  —জি নিউজ

 

উইঘুর প্রশ্নে চীনের

পক্ষে সাফাই

এদিকে, একই সাক্ষাতকারে চীনের জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে এনেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি চীনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। উইঘুরদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইমরান খান পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, কাশ্মীরে কী করছে ভারত? কাশ্মীরকে উন্মুক্ত কারাগার বানানো হয়েছে। এটা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না। এটা রীতিমতো ভণ্ডামি।

চীনকে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ অভিহিত করে ইমরান খান বলেন, ‘আমরা যখন অর্থনীতি রক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলাম, তখন চীন প্রকৃত বন্ধুর মতো আমাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। পাকিস্তানিরা এটা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।’

এইচবিও অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে আগামী দিনে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও অকপট ছিলেন ইমরান খান। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, আফগানিস্তানে অভিযান পরিচালনার জন্য পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সেনাঘাঁটি গড়তে দেওয়া হবে না। আল-কায়েদা, আইএস ও তালেবান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে (সিআইএ) পাকিস্তানের এলাকা ব্যবহারে ইমরান খান অনুমতি দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এ ধরনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে, উইঘুর নিয়ে ইমরান খানের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক মেহেদি হাসান। টুইটারে তিনি লিখেছেন, এটা খুবই বেদনাদায়ক। ইমরান বলার চেষ্টা করেছেন, জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে না! কারণ, চীন সরকারে থাকা তার বন্ধুরা তাকে বলেছেন, তারা এমন কোনো কাজ করছেন না।