শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দূর করুন

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে জ্ঞানের বাতিঘর। আর শিক্ষকরা হলেন মানুষ তৈরির কারিগর। কিন্তু নানা অন্যায়-অনিয়মের কারণে এই বাতিঘর এখন নড়বড়ে, কারিগররা আনমনে। ঢালাও অভিযোগ দেওয়া ঠিক হবে না। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজে যেসব শিক্ষক জড়িত, তাদের একশ্রেণির দুর্নীতি আজ চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির কারণে ভালো ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এক সময় কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে এই সমস্যা সমাধানে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তাই বলে কি নিয়োগ বাণিজ্য থেমে আছে? পিয়ন, ঝাড়ুদার থেকে শুরু করে অস্থায়ী শিক্ষক, কর্মচারী-কর্মকর্তা নিয়োগ কোথায় নাই অনিয়ম? এই অনিয়ম বন্ধ হবে কবে? আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ থেকে কী শিক্ষা নিচ্ছে তাও আমাদের গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে।

বিষয়টি সম্যক উপলদ্ধির জন্য আমার এলাকার একটি ছোট্ট ঘটনার উদাহরণ দিচ্ছি। নওগাঁর পত্নীতলা থানার আমাইড় ইউনিয়নে অবস্থিত কাদিয়াল সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার একজন শিক্ষক অন্যদের যোগসাজসে ভুয়া নিবন্ধন সনদধারীকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এখানে প্যাটার্নের অতিরিক্ত এমপিও ভোগ করছেন কেউ কেউ যা ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালার লংঘন। জালিয়াতি করে পরিচ্ছন্নকর্মীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা গভর্নিং বডির অনেক সদস্য পর্যন্ত জানেন না। বিজ্ঞান শাখার অনুমোদন না থাকলেও তা দিব্যি চলছে। অনেকের কাছে নিয়োগের জন্য টাকা নিয়ে নিয়োগ দিতে না পারলেও টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে এরকম আরো অনিয়মের খবর পাওয়া যাবে। শিক্ষা অধিদফতরে এ ব্যাপারে অভিযোগ দেওয়া হলেও অদ্যাবধি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরেকটি অনিয়ম হলো ভর্তি বাণিজ্য। নামি-দামি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি বাণিজ্যের উত্সব চলে ফি বছর। এসব বন্ধ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে পরীক্ষা বাণিজ্যও।

মো. আব্দুল মতিন, পত্নীতলা, নওগাঁ