তানভীরের অদম্য ছুটেচলা

‘ছোটবেলা থেকেই উপলব্ধি করতাম—বড় পরিসরে কিছু করতে হলে সংগঠিত হতে হবে, একা যেটি সম্ভব হয় না সংগঠিত হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’ কথার ফাঁকে সামাজিক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ার সাতকাহন এভাবেই তুলে ধরছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা তানভীর আল হাসান।

ইছামতি ডিগ্রি কলেজে পড়ার সময় মানবাধিকার ফাউন্ডেশনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সামাজিক কার্যক্রমে তার হাতেখড়ি হয়। এরপর সঞ্চালন, থিয়েটার সাস্ট, জেডএসসি, জেডএসও, পুসাজসহ কাজ করেছেন অনেক সংগঠনের হয়ে। বর্তমানে মানবসেবা ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন বিরামহীন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে এই সংগঠনের হয়ে বিভিন্ন প্রান্তে ছুটেছেন ব্লাড ক্যাম্পেইন নিয়ে। বিনামূল্যে হাজার হাজার মানুষের রক্তের গ্রুপ যেমন নির্ণয় করেছেন, তেমনি রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করেছেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে। তানভীরের অন্যসব কাজের মধ্যে রক্তদাতা যোগাড় করে দেওয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিনই ৩-৭টি কল আসে রক্তের জন্য। তাকে ছুটতে হয় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। তানভীর বলেন, ‘সরাসরি ডোনার কিংবা রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৩-৫ জন রোগীকে রক্ত যোগাড় করে দেওয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারি।’

তার জন্ম ও বেড়ে উঠা সিলেটের জকিগঞ্জে। যেখানে কাছে থেকে দেখেছেন দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ-অসহায়ত্ব। তাই ছোটবেলা থেকেই অসহায়দের জন্য ভালো কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে ভেবেছেন। অনেক প্রতিকূলতা থাকলেও মায়ের সমর্থন এবং সাহসের কাঁধে ভর করে তানভীর সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত হন। বর্তমানে একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গর্ব করেন তিনি। তানভীরের মতে, রক্তের জন্য বিপাকে পড়া মানুষকে সহযোগিতা করতে পারলে এক অন্যরকম অনুভূতি পাওয়া যায়। ইতিবাচক প্রভাব ফেলে আগামী দিনে এমন কাজ আরো ব্যাপকভাবে করতে চান তানভীর।