বিএনপির চেয়ার-পারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সুচিকিত্সার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার হূদেরাগের ঝুঁকি রয়েছে। তার কিডনি এবং লিভারের সমস্যা বেশ জটিল। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে কোনো চিকিত্সা না হওয়ায় হার্ট, লিভার ও কিডনির সমস্যা বেশ জটিল হয়ে উঠে। তার চিকিত্সক বোর্ডের প্রধান ডা. এ এফ এম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত হলেও কোভিড-পরবর্তী কয়েকটি জটিলতায় ভুগছেন এবং তিনি কোনোভাবেই ঝুঁকিমুক্ত নন। তার লিভার ও অন্যান্য জটিলতার চিকিত্সা বিদেশে কোনো উন্নত কেন্দ্রে প্রয়োজন।
গতকাল মঙ্গলবার গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। গত শনিবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, খালেদা জিয়া শুধু একজন বয়স্ক রাজনীতিবিদ নন, তিনি এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা কিংবদন্তির মতো। তিন বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। দেশে সর্ববৃহত্ রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তার পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা প্রয়োজন। চিকিত্কদের উদ্ধৃত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া ৫৩ দিন হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়ে করোনা ভাইরাস মুক্ত হলেও কোভিড-পরবর্তী কয়েকটি জটিলতায় ভুগছেন এবং তিনি কোনোমতেই ঝুঁকিমুক্ত নন। খালেদা জিয়া হাসপাতালে থাকাকালে দুইবার ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবিটি দলের পক্ষ থেকে আগে করা হয়নি কেন—জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আগে বলিনি, তার পরিবার বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিল। আমরা এবার পার্টির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেজ্যুলেশন নিচ্ছি যে, তার বিদেশে চিকিত্সা দরকার। এজন্য যা কিছু করা দরকার সরকারের করা উচিত ইমিডিয়েটলি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কবেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। তিনি করেন নাই। দুর্ভাগ্যজনক উলটো তারা ডিফেন্ড করছেন সবাই সবাইকে যে, তারা খুব ভালো কাজ করছেন। এত ভালো স্বাস্থ্যমন্ত্রী না কি আর হয় না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, লকডাউনের নামে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। আপনি লকডাউন কোথাও দেখতে পান? কোথায় লকডাউন? আমি তো দেখতে পাই না।
মির্জা ফখরুল বলেন, এনআইডি প্রকল্পের বিষয়ে ইসি চিঠি দেওয়ার পরেও সরকার সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে দুই লাইনের একটা চিঠি দিয়ে। এটা একটা অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েও তারা (সরকার) একটা ষড়যন্ত্র করতে যাচ্ছে, যাতে তারা জনগণের পরিচয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।